Last Updated:
বুধবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে ফেডারেশনের সমস্ত গিল্ডের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন রুদ্রনীল ঘোষ৷ সকলে তাঁর সামনে তাঁদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন৷ সেখানেই বোমা ফাটালেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়৷ তিনি চিরকালই স্পষ্ট বক্তা হিসেবে পরিচিত৷
কলকাতা: বুধবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে ফেডারেশনের সমস্ত গিল্ডের সদস্যদের সঙ্গে প্রথমবার কথা বললেন বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। বিভিন্ন কলাকুশলীরা এতদিনের তাদের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরলেন রুদ্রনীল ঘোষের কাছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত সহ বহু পরিচালক ও প্রযোজকরা৷ সেখানেই বোমা ফাটান পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়৷ চিরকালের স্পষ্ট বক্তা পরম, এদিন তাঁর যন্ত্রণাময় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন৷
তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যেককে কমপ্রোমাইজ করতে হয়৷ আমাকেও করতে হয়েছিল৷ আমার কোনও উপায় ছিল না, আমার সদ্যজাত সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করতে হয়৷ আমাদের প্রত্যেককে রোজগার করতে হয়৷ আমি ২৬-২৭ বছর ধরে কাজ করছি৷ কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত রাগ বা ক্ষোভ থেকে এই কথা বলছি না৷ অনেক অপমান সহ্য করতে হয়েছিল৷ এরম পরিস্থিতি যাতে তৈরি না৷ কে কোন দলের, কে কোন রঙের তার ভিত্তিতে যেন কাজ না হয়৷ নির্দিষ্ট কোনও বডি থাকবে৷ সামনাসামনি বসে কথা হোক৷ কেন পেটে লাথি মারা হবে? আমরা সকলে একসঙ্গে কাজ করতে চাই৷ এটি পরস্পর নির্ভরশীল একটা ইন্ডাস্ট্রি৷ যেখানে দল মত নির্বিশেষে কাজ হোক৷ কাউকে কর্মহীন না করা হয়, কাউকে যেন ক্ষমা চাইতে বাধ্য না করা হয়৷”
২০২৪ থেকে ২০২৫-এ একটা লড়াই শুরু হয়েছিল টলিউডের অন্দরে। নন মেম্বার নিয়ে কাজ করার জন্যই লড়াইটা হয়। ফিল্মের শ্যুটিং-এর ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম চাপিয়ে দিয়েছিল ফেডারেশন এবং তার বিরুদ্ধে মুখ খোলেন কয়েকজন আর্টিস্ট৷ যার মধ্যে ছিলেন পরমব্রত৷ মামলা আদালত পর্যন্ত গড়ায়৷ তারই ভিত্তিতে কয়েকজন পরিচালক-অভিনেতার বিরুদ্ধে অলিখিতভাবে ব্যান ঘোষণা করা হয়৷ পরে এর জন্য পরমব্রত খোলাখুলি ক্ষমাও চেয়ে নেন৷ এবার সেই পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা৷
বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার৷ রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও এসেছে একটা বড় বদল৷ তৃণমূল জামানায় যাঁদের হাতে ক্ষমতা ছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন বহু তারকা থেকে কলাকুশলীরা৷ অভিযোগ উঠছে, জোরপূর্বক অনেক কাজ হয়েছে, টলিউডে ব্যান কালচার তৈরি হয়েছে৷ তবে এবার টলিউডে আর যেন তারই পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই বিষয় নজর দিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার৷ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে। বুধবার সন্ধেবেলায় টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে ফেডারেশনের সমস্ত গিল্ডের সদস্যদের সঙ্গে প্রথমবার কথা বলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত রুদ্রনীল ঘোষ। বিভিন্ন কলাকুশলীরা এতদিনের তাদের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরলেন রুদ্রনীল ঘোষের কাছে।
রুদ্রনীলের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে কোনও ভীতির পরিবেশ তৈরি করা যাবে না। কোনও ফতোয়া জারি করে কারও কাজ বন্ধ করা যাবে না। রং দল মত নির্বিশেষে সকলে কাজ পাবে টলিউডে। রাজনৈতিক পরিচিতি খাটিয়ে কোনও কাজ মিলবে না এবং ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পাওয়া যাবে শুধুমাত্র যোগ্যতার উপর নির্ভর করে৷ তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে কোনওভাবেই শুটিং বন্ধ করা চলবে না। আলাপ আলোচনা করে সবকিছুর মীমাংসা করতে হবে। গ্রেফতার করে কাজ বন্ধ হবে না। এই মিটিং-এ অনেকেই স্বরূপ বিশ্বাসের নাম তুলে অভিযোগ জানান। সে বিষয়ে রুদ্রনীল ঘোষ জানিয়ে দেন যে, ‘‘এটা কলাকুশলীদের সঙ্গে প্রথম বৈঠক এরপরে আরও এরকম বৈঠক হবে এবং সমস্ত অভাব অভিযোগ শোনা হবে এবং তার সুরাহার পথ বের করা হবে।’’
এর আগে, টালিগঞ্জ বিধানসভা থেকে জয়ী হওয়ার পর প্রথমবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে পা রাখেন পাপিয়া অধিকারী। বাকি তিন জনের সঙ্গে স্টুডিও পাড়ার দায়িত্বও তাঁকে দিয়েছে নতুন সরকার। পাপিয়াকে টেকনিশিয়ানরা সম্বর্ধনা জানান। সেই সঙ্গে বিগত সরকার এবং স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন।
Kolkata,West Bengal
