কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা : রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির প্রধান স্লোগান ছিল- ভয় আউট, ভরসা ইন। নতুন সরকার এসেছে। তারপরে টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায় যেন সেই ভয় আউট, ভরসা ইনের প্রতিচ্ছবি দেখা গেল। জমানা পাল্টাতেই স্বরূপ বিশ্বাসের ‘স্বরূপ’ উন্মোচন হল ! অরূপ বিশ্বাসের ভাইয়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলল টালিগঞ্জ স্টুডিওপাড়া। পালাবদল হতেই ‘ব্যান থেকে খুনের হুমকি, পুলিশি হেনস্থা, তাল মেলাতে না পারলেই কাউন্সিলর দিয়ে শাসানি’, ইত্যাদি অভিযোগ তুলে বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের কাছে মুখ খুললেন টেকনিশিয়ান্সরা।
গতকাল টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওয় রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে যান বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। সেখানে… ফেডারেশন, তার অধীনে যে টেকনিশিয়ান্সরা আছেন…বিভিন্ন গিল্ড, তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে বা অভাব অভিযোগ শুনতে। সেখানে দেখা যায়, কেউ অভিযোগ করলেন ফেডারেশনের বিরুদ্ধে, কেউ অভিযোগ করলেন ফেডারেশনের শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে, কেউ অভিযোগ করেন কীভাবে তাঁকে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল তা নিয়ে। কেউ আবার অভিযোগ করেন, কথার সঙ্গে কথা না মেলানোয় খুনের পর্যন্ত হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমন অভিযোগও উঠে এসেছে যে তাঁকে শুধু বাদ দেওয়াই নয়, ক্লাবে ডেকে তাঁকে হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলরকে ডেকে থ্রেট দেওয়া হয়েছে। এমনকী পুলিশ পাঠানো হয়েছে তাঁদের কথার সঙ্গে কথা না মেলানোয়। সব মিলিয়ে নানা অভিযোগ উঠে আসে বৈঠকে।
এক মহিলা অভিযোগ করে বলেন, “বিগত দু’বছর ধরে কোনও কাজ নেই। কাজ নেই কেন জানি না। কাজ কিন্তু হচ্ছে। হেমামালিনী বলে একটা ছবি হয়েছিল। যেখানে ক্যামেরাম্যান গিল্ড মেম্বারে ছিলেন। সেটা তো আমার জানার কথা নয়। ফেডারেশন থেকে পারমিসনটা গিয়েছিল। সেই ছবিতে আমি কাজে যাই। আমাকে বলা হয়, তুমি তিনমাস সাসপেন্ড। জানি না কেন। সাসপেন্ড লেটার আমি পাইনি। মৌখিক। …তুমি তিনমাস সাসপেন্ড। আমি স্বরূপদাকে ফোন করি যে দাদা, আমার বাড়িতে আমি একমাত্র রোজগারে। আমার মা আছে, আমার মেয়ে আছে। আমাকে যদি কাজ না করতে দেন, তাহলে আমার সুইসাইড ছাড়া কোনও রাস্তা নেই। তার পরিপ্রেক্ষিতে আমার কাছে আসে, তুমি অন্যায় করেছো। তোমার যদি মনে হয় তুমি সুইসাইড করবে। তুমি করে নিতে পারো। তারপরে আমার মা যখন হসপিটালাইজড, আমার মা মারা যান। আমি আমার সেক্রেটারিকে ফোন করি। যিনি অরূপ বিশ্বাসের অত্যন্ত খাস লোক। আমার বলতে কোনও ভয় নেই। এতদিন ভয় ছিল। সে সবটা জানত। তাকে যখন হাসপাতালে দাঁড়িয়ে ফোন করি যে, আমার মায়ের কিছু ডকুমেন্ট নেই। আমার মা-কে যাতে শ্মশানে নিয়ে গেলে অসুবিধা না হয়…আমাকে একটু দাদাকে বলে ব্যবস্থা করে দিবি ? বলল, আমাকে পাঁচ মিনিট সময় দাও। পাঁচ মিনিট পর যেটা আমার কাছে এল, তোমার মা-কে কি লাওয়ারিস লাশ হিসাবে পোড়াবে ? দাদা জিজ্ঞাসা করছে। বলা হয়েছে, আমাকে দিয়ে যাতে কাজ না করা হয়।”