Last Updated:
West Bengal Higher Secondary WBCHSE Class 12th Result 2026: বাবা পেশায় রংমিস্ত্রি, দিন আনা দিন খাওয়া সংসার। নিজেরা কষ্ট করলেও মেয়ের পড়াশোনার স্বপ্নে কখনও আর্থিক অনটনকে বাধা হতে দেননি বাবা-মা। আর পরীক্ষার খাতায় ৪৮৫ নম্বর তুলে এনে বাবার সেই নিরলস পরিশ্রমের মান রাখল পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের অন্নপূর্ণা বেরা।
রামনগর, সৈকত শী: অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর অধ্যবসায় থাকলে যে কোনও প্রতিকূলতাকেই জয় করা সম্ভব, তা আরও একবার প্রমাণ করল এবারের এক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে চমকে দেওয়ার মতো রেজাল্ট করল ওই ছাত্রী। মাত্র দু’নম্বরের জন্য স্থান হয়নি উচ্চমাধ্যমিকের মেধা তালিকায়। মেধাতালিকায় স্থান না পেলেও তার এই কৃতিত্বকে বাহবা দিচ্ছে সবাই। কারণ আর্থিক প্রতিকূলতাকে কার্যত তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিল নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও মেধা দিয়ে। বাবা রংমিস্ত্রি হলেও মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৮৫ নম্বর পেয়ে তাক লাগাল। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রামনগর থানার ঘণ্টাশোলা গ্রামের মেয়ে অন্নপূর্ণা বেরা। ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৪৮৫ পেয়ে মহকুমায় যুগ্ম প্রথম স্থান অধিকার করেছে সে। মঙ্গলপুর এলাকার ঘণ্টাশোলা গ্রামের এই সাধারণ ঘরের মেয়ের অভাবনীয় সাফল্যে গর্বিত সবাই।
অন্নপূর্ণা রামনগরের গোবরা ইন্দ্রনারায়ণ ক্ষেত্রমোহন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। ছোটবেলা থেকেই সে অত্যন্ত মেধাবী, শান্ত ও অধ্যবসায়ী হিসেবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পছন্দের শিক্ষার্থী ছিল। তবে তার এই সাফল্যের পথটা একেবারেই মসৃণ ছিল না। অন্নপূর্ণার বাবা পেশায় একজন রংমিস্ত্রি। দিন আনা দিন খাওয়া সংসারে আর্থিক অনটন যেখানে নিত্যসঙ্গী, সেখানে মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটাই ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। কিন্তু অভাবকে কখনও নিজের স্বপ্নের সামনে দেওয়াল হতে দেয়নি অন্নপূর্ণা।
মেয়ের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে বাবাও সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন, শিক্ষায় কোনও আপস করেননি। মেয়ের এই সাফল্যে আবেগপ্লুত বাবা-মা জানান, “মেয়ের এই ফল আমাদের সমস্ত বিগত দিনের কষ্ট ও পরিশ্রমকে ভুলিয়ে দিয়েছে।” অন্নপূর্ণার স্বপ্ন কিন্তু এখানেই থেমে নেই। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ভবিষ্যতে গবেষণার জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় সে। বিজ্ঞানের আঙিনায় নতুন কিছু আবিষ্কার করে দেশের ও সমাজের সেবা করাই তার মূল লক্ষ্য। তবে মেধা থাকলেও, এই স্বপ্নপূরণের পথে এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই আর্থিক প্রতিবন্ধকতা। আগামী দিনে উচ্চশিক্ষার বিপুল খরচ বহন করা এই দরিদ্র পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
অন্নপূর্ণার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে সমাজের সহৃদয় ও বিত্তবান মানুষদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার। ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণার এই কৃতিত্বে চারিদিক থেকে শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে চলেছে। রামনগর বিধানসভার বিধায়ক থেকে শুরু করে এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষক সত্যরঞ্জন দত্ত এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অন্নপূর্ণার বাড়িতে এসে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ও তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন। গ্রামের এক সাধারণ পরিবারের মেয়ের এই অসাধারণ সাফল্য আজ নতুন করে মনে করিয়ে দিল— প্রতিভা ও মেধা কখনও অর্থের কাছে হার মানে না। সঠিক লক্ষ্য আর কঠিন পরিশ্রম থাকলে সমস্ত বাধা পেরিয়ে আকাশ ছোঁয়া যায়, অন্নপূর্ণা যেন তারই এক জীবন্ত প্রতীক।
Purba Medinipur,West Bengal
May 18, 2026 10:19 AM IST