বেঙ্গালুরু: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাবের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে কর্নাটকে। সেই আবহে নয়া দাবি তুললেন বিজেপি বিধায়ক জনার্দন রেড্ডি। স্কুলে নাম ডাকার সময় ‘ইয়েস স্যার’ বা ‘ইয়েস ম্যামে’র পরিবর্তে, ‘জয় শ্রীরাম’ বলে সাড়া দিতে হবে বলে দাবি তুললেন তিনি। (Karnataka Jai Shri Ram Row)
হিজাব পরে স্কুল-কলেজে ঢোকায় কর্নাটকে এতদিন যা নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা উঠে গিয়েছে। সেই নিয়ে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়েছিল জনার্দনের কাছে। জবাব দিতে গিয়ে রাজ্যের কংগ্রেস সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। কংগ্রেস সংখ্য়ালঘু তুষ্টিকরণের রাজনীতি করছে বলে দাবি করেন। আর সেই প্রসঙ্গেই প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক বসনগৌড়া পাটিল ইয়াতনালের আগের একটি সুপারিশ তুলে ধরেন। (BJP News)
দলবিরোধী কাজের জন্য় বসনগৌড়াকে বহিষ্কার করেছে বিজেপি। বর্তমানে নির্দল বিধায়ক হিসেবে কর্নাটক বিধানসভার সদস্য তিনি। একসময় স্কুলে ‘জয় শ্রীরাম’ চালুর সুপারিশ করেছিলেন বসনগৌড়া। সেই প্রসঙ্গ টেনে জনার্দন বলেন, “উনি যদিও এখন বিজেপি-তে নেই, তবে বড় কথা বলেছিলেন উনি। স্কুলে নাম ডাকার সময়, ইয়েস স্যর বা ইয়েস ম্যামের পরিবর্তে জয় শ্রীরাম বলে সাড়া দেওয়া উচিত পড়ুয়াদের।”
জনার্দন জানিয়েছেন, স্কুলে ‘জয় শ্রীরাম’ বলার দাবিকে ১০০ শতাংশ সমর্থন করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমি ১০০ শতাংশ সমর্থন করি ওই দাবিকে। যে কোনও স্কুল বা কলেজে গেলে, সরাসরি বিষয়টি তুলি। সকলকে গেরুয়া পাগড়ি, গেরুয়া চাদরও পরতে দেওয়া হোক। ভারতীয় হিসেবে এটা আমাদের ধর্ম।”
জনার্দনের মন্তব্য় ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেত্রী লাবণ্য বল্লার অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রদায়িকতা ছড়াতে চাইছে বিজেপি। তাঁর কথায়, “কর্নাটকে বসনগৌড়া এবং জনার্দনের সুপরিচিতি নেই। বসনগৌড়া বার বার বিতর্কিত, উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। জনার্দনের বিরুদ্ধে বেআইনি খাদান, রাজ্যের সম্পদ লুঠের অভিযোগ রয়েছে। কী পরা উচিত, কী স্লোগান দেওয়া উচিত, তা পড়ুয়াদের বলে দেওয়ার ওরা কে?” লাব্যণ জানিয়েছে, পড়ুয়ারা চাইলে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতেই পারে। কিন্তু নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শ স্কুলের উপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয় রাজনীতিকদের।
বিজেপি-কে আক্রমণ করে লাবণ্য আরও বলেন, “স্কুল শিক্ষালাভের জায়গা। বিজেপি আগে উত্তর দিক, ওদের শাসনকালে এত স্কুল বন্ধ হল কেন? তার পর না হয় বিতর্ক তৈরি করবে।”
জুন মাসে কর্নাটকে ফের স্কুল-কলেজ খুলতে চলেছে। তার আগে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ২০২২ সালে পোশাক নিয়েই বিতর্ক শুরু হয়। হিজাব পরে স্কুল-কলেজে ঢুকতে না দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামেন পড়ুয়াদের একাংশ। অন্য একাংশ আবার গায়ে গেরুয়া বসন পরে পাল্টা বিক্ষোভ দেখান। বিজেপি সরকারে থাকাকালীন সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ইউনিফর্ম বাধ্য়তামূলক করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব পরে ঢোকার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে হাইকোর্টও। কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি বদলেছে। বিজেপি তাদের বিরুদ্ধে তুষ্টিকরণের অভিযোগ তুলছে।