Last Updated:
Kakoli Ghosh Dastidar: রাজ্যে ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পর তৃণমূলের অন্দরেও একাধিক পরিবর্তন ঘটেছে। সম্প্রতি লোকসভার মুখ্য সচেতক পদ থেকে কাকলিকে সরিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। সেই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় উষ্মাও প্রকাশ করেছিলেন কাকলি।
কলকাতা, জিয়াউল আলম: তৃণমূল কংগ্রেসের দলের সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করলেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার৷ অভিযোগ করলেন, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে হুমকি দিয়েছিল ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক৷ কাকলির দাবি ওই সংস্থা,‘‘দল পরিচালনায় সর্বনাশ করে গেছে’’৷ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পরে দৃশ্যতই অগোছালো অবস্থা তৃণমূলের৷ হারের কারণ পর্যালোচনায় তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা সাংসদ, বিধায়ক, এমনকি, কাউন্সিলরদের বৈঠকেও অনুপস্থিত থাকছেন বহু মুখ৷ এর মধ্যে বহু নেতা মুখ খুলতে শুরু করেছেন দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে৷ আর আইপ্যাক, যে সংস্থার উপরে অনেকটাই ন্যস্ত ছিল ছাব্বিশের লড়াইয়ে তৃণমূলের স্ট্র্যাটেজি, সেই সংস্থাকেও কাঠগড়ায় তুলছেন বহু নেতানেত্রী৷ এবার সেই তালিকায় যোগ হল কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নামও৷
সম্প্রতি, লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদ থেকে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে দেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবর্তে ওই পদে ফিরিয়ে আনা হয় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তার পরেই সমাজমাধ্যমে মুখ খোলেন কাকলি।
একটি পোস্ট করে লেখেন, ‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।’
তবে, এরই মাঝে রাজ্যের বেশিরভাগ তৃণমূল নেতানেত্রীর নিরাপত্তায় যখন কাটছাঁট করা হয়েছে, ঠিক তখনই উল্টো ঘটনা ঘটেছে তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ক্ষেত্রে। কেন্দ্রীয় সুরক্ষা পেয়েছেন তিনি। তাঁকে ওয়াই প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দিয়েছে কেন্দ্র।
উত্তর ২৪ পরগনার মতো শক্ত গড়েও তৃণমূল কংগ্রেসের ফলাফল আশাপ্রদ হয়নি। ৩৩টির মধ্যে মাত্র ৯টি আসন এসেছে ঘাসফুলের দখলে। বারাসত-সহ আশপাশের বেশিরভাগ বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে বিজেপি। এরপরই দলের তরফে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের কার্যত ডানা ছাঁটা হয়। লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক করা হল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
লোকসভার দলনেতা ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ২০২৫ সালে সংসদীয় দলে রদবদল আনা হয়। দলনেতার দায়িত্ব পান ডায়মন্ড হারবারের তিনবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য সচেতক হিসেবে কল্যাণের পদে বসানো হয় বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে।
