কলকাতা : কলকাতা পুরসভায় নজিরবিহীন সংঘাত। এবার বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে থানায় তলব। তৃণমূল কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে নোটিস পাঠাল নিউ মার্কেট থানা। গত ২২.০৫.২৬ তারিখ অধিবেশন কক্ষে তালাবন্ধ থাকায় শোরগোল পড়ে যায়। হাউসের বাইরে ‘হাউস’ বসান তৃণমূল কাউন্সিলররা। অধিবেশন কক্ষ তালাবন্ধ থাকায় কলকাতা পুরসভার সচিবের ঘরে প্রতিবাদ জানান তৃণমূল কাউন্সিলররা সেই নিয়ে এবার তৃণমূল কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে নোটিস ধারাল পুলিশ।
নোটিশ নিয়ে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় জানান, ”পৌর সচিব ও যারা ছিলেন তাঁরা আমাদের অধিবেশন কক্ষের ঘর খোলেননি। কলকাতা পুরসভা এক্ট ১৯৮০-তে যেটা রয়েছে চেয়ারম্যানের নির্দেশে সচিব অধিবেশন ব্যবস্থা করেন। আমাদেরকে না জানিয়ে, চেয়ারম্যানকে না জানিয়ে সচিব অধিবেশন বন্ধ করলেন, আমরা কাউন্সিলর রুমে অধিবেশন করলাম, আমরা সচিবকে আসার জন্য অনুরোধ করলাম। এতে যদি কোনও অপরাধ হয়, মামলা হয়, তবে কিছু বলার নেই। পুলিশকে দিয়ে কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে, অর্থাৎ ২২ মে খোলা হয়নি কলকাতা কর্পোরেশনের অধিবেশন কক্ষ। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় তুমুল উত্তেজনা। তারপর ঘটল এক নজিরবিহীন ঘটনা। হাউসের বাইরেই বসল হাউস। ঘর না খোলায় কাউন্সিলর্স ক্লাব রুমে হাউস বসালেন তৃণমূল কাউন্সিলররা। চেয়ারপার্সন বলা সত্ত্বেও খোলা হয়নি ঘর, এমনই অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলররা।
এই ইস্যুতে এবার মুখ খুললেন ফিরহাদ হাকিম। ‘সব নির্বাচিত..যত আমাদের প্রতিনিধি আছে, তাঁদের একটা চরম অপমান। একটা নিদর্শন হয়ে রইল। হঠ করে আমার ইচ্ছে হল , আমি হাউজ বন্ধ করলাম, হাউজ খুললাম, এটা..সম্পূর্ণ চেয়ারপার্সনের কাজ। সুতরাং অ্যাক্ট অনুযায়ী চেয়ারপার্সনকে যেমন চলতে হবে, তেমন…. আজকে যেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখ্যের। তাই আমার যারা কলিগ,যারা কাউন্সিলররা এখানে এসেছেন, প্রত্যেককে অভিনন্দন জানাই। আমাদের গণতন্ত্রের জন্য যে লড়াইয়ে আপনারা সামিল হয়েছেন, সেই গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই আমরা চালিয়ে যাব।’
ফিরহাদ হাকিম অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় বলেন, “অদ্ভুত পরিস্থিতি। আমি প্রাণপন চেষ্টা করেছি যাতে এই পরিস্থিতি তৈরি না হয়। আমি পৌর কমিশনারকেও বারবার ডেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, সরকার সরকারের কাজ করবে। আমরা আমাদের কাজ করব। ওঁকে বললাম যে, যখন সরকার বলেছে যে, সব পুরসভায় নির্ধারিত সময়মতো নির্বাচন হবে, আমরা আগে কোনও বোর্ড ভেঙে দেব না। তাহলে সেই পরিপ্রেক্ষিতে নর্মালেন্সি এনে মেয়র পরিষদকে কাজ করতে দেওয়া হোক। এবং মেয়র পরিষদের মিটিং হোক। হাউস হোক। হাউস হয়ে যে প্রস্তাবগুলো আসছে, সেগুলো আপনার কাছে পাঠানো হবে প্রসেসের জন্য। আমরা পলিসি-মেকার পলিসি করব। আপনি এক্সিকিউটিভ আপনি আপনার কাজ করবেন। কিন্তু, এটা আমার দুর্ভাগ্য যে আমি বোঝাতে পারিনি।”