Last Updated:
Iran Strikes US Base: আইআরজিসি জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা ভোর ৪:৫০ মিনিটে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, তবে তারা ঘাঁটিটির অবস্থান প্রকাশ করেনি।
নয়াদিল্লি: দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলার জবাবে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে প্রতিশোধমূলক হামলার দায় বৃহস্পতিবার স্বীকার করেছে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী বা দ্য ইরানিয়ান রেভোলিউশনারি গার্ডস। আইআরআইবি-র উদ্ধৃতি দিয়ে গার্ডস জানিয়েছে, “আজ সকালে বন্দর আব্বাস বিমানবন্দরের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি স্থানে আগ্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনী আকাশ থেকে নিক্ষিপ্ত বোমা বর্ষণ করে আক্রমণ চালানোর পর, ভোর ৪:৫০ মিনিটে (০১২০ জিএমটি) সেই হামলার উৎসস্থল মার্কিন বিমান ঘাঁটিটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।”
ইরান লক্ষ্যবস্তু করা ঘাঁটিটির সঠিক অবস্থান প্রকাশ করেনি। তবে, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান মিত্র কুয়েত জানিয়েছে, তারা বৃহস্পতিবার ভোরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব দিয়েছে। ইরান আরও সতর্ক করেছে যে, আমেরিকার যে কোনও ধরনের আগ্রাসনের জবাবে “আরও কঠোর” জবাব দেওয়া হবে এবং এর পরিণতির দায় “আগ্রাসনকারীর” ওপর বর্তাবে। প্রসঙ্গত হরমুজ প্রণালীর উপর দিয়ে ড্রোন হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা পর, আমেরিকা দেশটির দক্ষিণে ইরানি সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে।
ইরানের দক্ষিণ উপকূল বরাবর অবস্থিত বন্দর আব্বাস হরমুজ প্রণালীর মুখে একটি অত্যন্ত কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণের সংকীর্ণ পথ, যেখান দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের অপরিশোধিত তেলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চলাচল করে। শহরটি ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে এবং এখানে গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সামুদ্রিক ইউনিটগুলো অবস্থিত। নিকটবর্তী শহীদ রাজাই বন্দর, যা ইরানের বৃহত্তম কন্টেইনার হাব, দেশটির বাণিজ্য নেটওয়ার্ক এবং জ্বালানি রফতানিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইরানের নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর সান্নিধ্যের কারণে পশ্চিমী নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই বন্দরটিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে আসছে।
বন্দর আব্বাসের অবস্থান একে অপরিসীম ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব দেয়। এই অঞ্চলে যে কোনও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি বা বিশৃঙ্খলা দ্রুত আন্তর্জাতিক নৌপথকে প্রভাবিত করতে পারে, ট্যাঙ্কারের বীমার খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে এবং তেলের বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও সর্বশেষ এই উত্তেজনা বৃদ্ধি ঘটেছে, কারণ উভয় পক্ষই তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে দীর্ঘস্থায়ী আলোচনায় নিযুক্ত রয়েছে। এই সংঘাত হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌচলাচল ব্যাহত করেছে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
May 28, 2026 10:31 AM IST
