সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই বৃদ্ধির কৌশলের মূল ভিত্তি হবে সুশৃঙ্খল Asset Allocation ভিত্তিক পরামর্শ, বৈচিত্র্যময় ক্লায়েন্ট পরিষেবা এবং ভারতের উদীয়মান Tier-II শহরগুলিতে দ্রুত সম্প্রসারণ।
বর্তমানে ভারতে উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের সংখ্যা বছরে প্রায় ১২ শতাংশ হারে বাড়ছে। দেশের ধনী ব্যক্তিদের হাতে মোট সম্পদের পরিমাণ ইতিমধ্যেই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। কিন্তু এত বড় বাজার থাকা সত্ত্বেও ভারতে সংগঠিত Wealth Management পরিষেবার প্রবেশ মাত্র ১১-১২ শতাংশ। উন্নত দেশগুলিতে যেখানে ৬০-৭৫ শতাংশ সম্পদ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার আওতায় থাকে, সেখানে ভারতের এই বিশাল ব্যবধানকেই বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে Systematix Private Wealth।
সংস্থার Joint Managing Director ও CEO পার্থ সেনগুপ্ত বলেন, “যখন উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের ১০ টাকার মধ্যে ৯ টাকাই সংগঠিত Wealth Management-এর বাইরে থাকে, তখন এই সুযোগ শুধুই বৃদ্ধি নয়, বরং এক বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করে। ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা এখন তাঁদের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা চাইছেন। সেই পরিবর্তনের জন্যই তৈরি Systematix Private Wealth।”
অন্য Joint Managing Director ও CEO ভাস্কর হাজরা বলেন, “ভারতের সম্পদ সৃষ্টির গল্প এখন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। প্রতি বছর মিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ১২ শতাংশ হারে বাড়ছে এবং ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের বড় অংশ এখনও আনুষ্ঠানিক পরামর্শ ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে। আমরা সেই ছবিটাই বদলাতে চাই, সঠিক Asset Allocation-এর মাধ্যমে।”
সংস্থার দাবি, তাদের ব্যবসায়িক দর্শনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হল সঠিক Asset Allocation, শুধুমাত্র পণ্য বিক্রি নয়। সেই লক্ষ্যেই Equities, Fixed Income, Alternative Investments, Commodities, Offshore Products, Estate Planning এবং Tax Advisory— সব ক্ষেত্রেই পূর্ণাঙ্গ পরিষেবা দেওয়া হবে।
Systematix Private Wealth তিনটি আলাদা গ্রাহক শ্রেণির উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। প্রথমত, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ, CXO এবং উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিরা, যাঁদের ন্যূনতম বিনিয়োগ সীমা ৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয়ত, Family Office এবং ব্যবসায়ী পরিবার, যাঁদের জন্য বহু প্রজন্মভিত্তিক সম্পদ পরিকল্পনা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, Corporate Treasury বিভাগ, যেখানে বড় সংস্থার নগদ ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ পরিষেবা দেওয়া হবে। Ultra-HNI গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বিনিয়োগের পরিমাণ রাখা হয়েছে ২৫ কোটি টাকা।
সংস্থার অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল তাদের নিজস্ব In-house Fund Selection Model। এই মডেলের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাটেগরির মধ্যে সেরা পারফর্ম করা ফান্ড বেছে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। ফলে বাজারের ওঠানামা বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের উপর নির্ভর না করে গবেষণাভিত্তিক বিনিয়োগ কৌশল গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে দাবি সংস্থার।
সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, আহমেদাবাদ, ইন্দোর এবং পুনে— এই ছয় শহরে উপস্থিতি তৈরি করেছে Systematix Private Wealth। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সংস্থা ১৭টি শহরে পরিষেবা চালু করতে চায়। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে সুরাত, জয়পুর, বরোদা, লখনউ, হায়দরাবাদ এবং গোয়ার মতো দ্রুত বিকাশমান Tier-II শহরগুলিকে।
সংস্থার মতে, ভারতে এখনও প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলারের উচ্চ সম্পদশালী সম্পদ অনানুষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এর অল্প অংশও যদি সংগঠিত Wealth Management পরিষেবার আওতায় আসে, তাহলে Mutual Funds, Alternative Investment Funds, Private Markets এবং Direct Equities-এর মতো ক্ষেত্রগুলিতে দীর্ঘমেয়াদি বড় বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে।
Systematix Private Wealth-এর বিশ্বাস, ভারতে দ্রুত বাড়তে থাকা সম্পদ, বিনিয়োগকারীদের আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আনুষ্ঠানিক Wealth Management পরিষেবার অভাব— এই তিনের মিলিত প্রভাব আগামী দিনে সংস্থার জন্য বড় সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করবে।