ভারতের কেরলকে ‘বর্ষার গেটওয়ে’ বলা হয়। আসলে, ভারত মহাসাগর থেকে সরাসরি ধাক্কা খাওয়া দক্ষিণ-পশ্চিমি হাওয়াই বর্ষা নিয়ে আসে দেশে। কেরল এই হাওয়ার প্রথম গন্তব্য। এখান থেকে এর দুটো শাখা হয়ে যায়। এর মধ্যে একটা আরব সাগরের উপর দিয়ে যায় আর আরেকটা বঙ্গোপসাগরের উপরে দিয়ে যায়। এই হাওয়াগুলো ধীরে ধীরে উত্তর আর পূর্ব দিকে এগিয়ে গিয়ে পুরো দেশে পৌঁছে যায় আর বর্ষা নিয়ে আসে। তবে এই প্রক্রিয়ায় ১ থেকে দেড় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়।
কেরল থেকে উত্তর ভারত পর্যন্ত আসতে কত সময় লাগবে বর্ষা?
বর্ষা উত্তর ভারত পর্যন্ত পৌঁছানো পুরোপুরি বায়ুমণ্ডলের চাপ, সমুদ্রের শক্তি আর হাওয়ার উপর নির্ভর করে। আসলে যখন উত্তরে বেশি গরম পড়ে তখন বায়ুচাপ কমে যায়। তখন সমুদ্রের ঠান্ডা আর স্যাঁতসেঁতে হাওয়া এই দিকে টেনে আনে। এই প্রক্রিয়ায় এক থেকে দেড় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
যদি হাওয়ার গতি বেশি হয় তাহলে ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যেও বর্ষা উত্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর পাশাপাশি ইন্টার ট্রপিকাল কনভারজেন্স জোনও এতে গুরুত্বপূর্ণ হয়। এটা একটা কাল্পনিক পট্টি, যেখানে উত্তর আর দক্ষিণের হাওয়া একসঙ্গে মেশে। গরমকালে এটা উত্তরের দিকে সরে যায় আর বর্ষার হাওয়া এর পিছনে চলে।
কোন রাজ্যে কবে বর্ষা আসবে?
কেরলে বর্ষা আসছে, এখান থেকে এটা সামনে এগোবে। জুনের শেষ সপ্তাহ বা জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পুরো ভারতকে ঢেকে ফেলবে।
৮ থেকে ১০ জুনের মধ্যে এটা কর্ণাটক আর তামিলনাড়ু পর্যন্ত পৌঁছবে। ম্যাঙ্গালুরু, বেঙ্গালুরু আর উপকূলীয় কর্ণাটক সবার আগে ভিজবে।
জুনের মাঝামাঝি এটা অন্ধ্রপ্রদেশ আর তেলেঙ্গানা পর্যন্ত পৌঁছবে। এই সময়ে গোয়া আর মহারাষ্ট্রেও ভারী বৃষ্টির কারণ হবে।
অন্ধ্রপ্রদেশ-তেলেঙ্গনা থেকে বর্ষা ছত্তিশগড়, ওড়িশা আর পশ্চিমবঙ্গ পৌঁছাবে, জুনের মাঝামাঝি এর পৌঁছনোর সম্ভাবনা আছে।
জুনের তৃতীয় আর চতুর্থ সপ্তাহের মধ্যে বর্ষা ঝাড়খণ্ড আর বিহার পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। এখান থেকে পূর্ব উত্তরপ্রদেশে আসবে।
উত্তরপ্রদেশ আর মধ্যপ্রদেশে জুনের শেষ সপ্তাহে বর্ষা আসবে। এরপর জুনের শেষ বা জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে দিল্লি এনসিআর পৌঁছাবে।
পঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থানে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ষার মেঘ পৌঁছে যাবে আর পরের কয়েকদিনে হিমাচল আর কাশ্মীরকেও ঢেকে নেবে।
তবে এটা পুরোপুরি হাওয়ার চাপের উপর নির্ভর করে, গত বছর ২৪ মে-তেই বর্ষা কেরলে এসেছিল। IMD-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই দিনই এটা মিজোরামেও পৌঁছে গিয়েছিল।