রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বিধানসভায় সফল ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ জয়ী বিধায়ককে নিজেদের দিকে টানার পরে ঋতব্রত-সন্দীপনের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে তৃণমূল সাংসদদের সমর্থন নিজেদের দিকে টানা৷ কারণ, দলের নাম তথা প্রতীকের উপরে অধিকার বজায় রাখতে হলে বিধায়কদের পাশাপাশি দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদদের সমর্থনও তাদের জরুরি৷ সেক্ষেত্রে, আবারও বড় ধরনের ফাটলের মুখোমুখি হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল৷
গত বুধবারই ৫৮ জন জয়ী তৃণমূল বিধায়কের সমর্থন নিয়ে স্পিকারল রথীন্দ্র বোসের কাছে বিরোধী দলনেতা হওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়৷ স্পিকার তাঁর দাবিকে মান্যতাও দেন৷ উল্লেখযোগ্যভাবে এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে, ঋতব্রত সহ অন্য বিদ্রোহী বিধায়কদের মুখে কোনও মমতা বিরোধী কথা শোনা যায়নি৷ বরং, তাঁরা মমতাকেই তাঁদের মূল পরামর্শদাতা হিসাবে চেয়েছিলেন৷ তবে পাশাপাশি, স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, বিধানসভার তৃণমূলের পরিষদীয় দলের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও সম্পর্ক নেই৷ অর্থাৎ, মমতাকে ‘মান্যতা’ দিয়ে অভিষেকের নেতৃত্বকে অস্বীকার করা৷
সেক্ষেত্রে, বিধানসভায় নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করার পরে এবার ঋতব্রতদের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে তৃণমূল সাংসদদের সমর্থন আদায়৷
বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের ২৯ জন সাংসদ রয়েছেন, যেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদীয় দলের নেতা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংসদ—সম্ভবত ২০ জন বা তারও বেশি—বিদ্রোহী শিবিরের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সংসদীয় নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জোরদার হতে পারে। ইতিমধ্যেই, দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছেন সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার৷
এমনটা হলে তা দলের অন্দরে অভিষেকের কর্তৃত্বকে সবচেয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা হবে৷ সেক্ষেত্রে, তৃণমূলের ফাটলের প্রভাব আর শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই আটকে থাকবে না, বরং সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে তাদের বিরোধী ভূমিকা, জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের প্রভাব, সংসদীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের অবস্থান, সবকিছুকেই প্রভাবিত করবে তা৷
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে হারের পরে একমাসও টিকল না তৃণমূল৷ বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েন, বিধানসভার চিঠিতে সই জালের অভিযোগে তদন্ত, তারপরে ঋতব্রত-সন্দীপনদের বহিষ্কারের পরে তৃণমূলের দু’টুকরো হয়ে যাওয়া৷ ৪৮-৭২ ঘণ্টার মধ্যেই বিরাট বদল তৃণমূলে৷
যার জেরে তৃণমূল ইতিমধ্যেই তাদের সমস্ত কমিটি ও শাখা সংগঠন ভেঙে দিয়েছে, ফলে দলের সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত নতুন করে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিদ্রোহীরা বিধানসভার সাফল্য সংসদেও পুনরাবৃত্তি করতে পারবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—যে লড়াইয়ের শুরু হয়েছিল বাংলার বিধানসভায়, তা আর সেখানে সীমাবদ্ধ নেই। পরবর্তী সংঘর্ষের মঞ্চ হতে পারে লোকসভা, আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।