Last Updated:
সেবাশ্রয় প্রকল্প নিয়ে একাধিক অভিযোগের তদন্তে এবার স্ক্যানারে ৩৮ জন চিকিৎসক। স্বাস্থ্য দফতর ও তদন্তকারীরা ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, প্রেসক্রিপশন এবং ক্যাম্প পরিচালনা সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন।
কলকাতাঃ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় প্রকল্পকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার তদন্তকারীদের নজরে ৩৮ জন চিকিৎসক। সরকার পরিবর্তনের পর সেবাশ্রয় নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতরও তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সেবাশ্রয়ের সঙ্গে যুক্ত ৩৮ জন চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
ডায়মন্ড হারবারের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে সেবাশ্রয় ক্যাম্প পরিচালনার জন্য ৩৮ জন চিকিৎসককে নিয়ে ‘ডক্টরস কো-অর্ডিনেশন টিম’ গঠন করা হয়েছিল। এই দলে ছিলেন একজন চিফ কো-অর্ডিনেটর, একজন ওভারঅল ক্যাম্প কো-অর্ডিনেটর এবং একজন স্পেশালিস্ট ডক্টরস কো-অর্ডিনেটর। তাঁদের নেতৃত্বেই কাজ করতেন আরও ৩৫ জন চিকিৎসক। সূত্রের খবর, এই ৩৮ জনের মধ্যে একজন চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে নদিয়ার একটি কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন এবং ফলতা বিধানসভা এলাকায় সেবাশ্রয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
তদন্তকারীদের হাতে পৌঁছেছে একাধিক অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছে, চিকিৎসক নন এমন ব্যক্তিরাও রোগী দেখেছেন, হোমিওপ্যাথির পড়ুয়াদের দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছে এবং কাজ করিয়েও একাধিক চিকিৎসককে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মাটি খুঁড়ে কোটি টাকার ওষুধ উদ্ধারের ঘটনাও তদন্তের আওতায় এসেছে। অভিযোগ, সেই ওষুধ সেবাশ্রয়ের জন্য কেনা হয়েছিল। এছাড়া সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম সেবাশ্রয় ক্যাম্পে ব্যবহারের অভিযোগ এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কোথা থেকে আসত এবং সেবাশ্রয়ে যাঁরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে পরিষেবা দিয়েছেন তাঁরা আসলে কারা। সেবাশ্রয় ক্যাম্প থেকে দেওয়া প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসকের নাম বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর না থাকার বিষয়টিও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, লাইসেন্স ছাড়া আল্ট্রাসোনোগ্রাফি ও এক্স-রে মেশিন ব্যবহার, অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে চিকিৎসা করানো এবং স্থানীয়দের ভয় দেখিয়ে ক্যাম্পে আনার মতো গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলছে। তাঁর দাবি, এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
Kolkata,West Bengal
