Last Updated:
Assam Flood Situation Update: বন্যায় বিপর্যস্ত অসম, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের জন্য বিশেষ ঘোষণা! কেন্দ্রের কাছে সহায়তা চাইল রাজ্য।
গুয়াহাটি: অসমে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের জন্য বড় স্বস্তির ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চার জেলার ঋণগ্রহীতারা আগামী ছয় মাস ঋণের কিস্তি (ইএমআই) পরিশোধে ছাড় পাবেন। এদিকে, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই সিদ্ধান্ত রাজ্য স্তরের ব্যাঙ্কার্স কমিটির (এসএলবিসি)-র বিশেষ বৈঠকে নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, নাবার্ড, স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
চার জেলার ঋণগ্রহীতাদের জন্য ছয় মাসের স্বস্তি
এই ঋণ পরিশোধে ছাড় মিলবে শিবসাগর, চরাইদেও, যোরহাট এবং গোলাঘাট জেলার ঋণগ্রহীতাদের। এই চারটি জেলাই বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকগুলি প্রতিটি ঋণগ্রহীতার পরিস্থিতি যাচাই করে এই সুবিধা দেবে। শুধুমাত্র বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরাই এই সুবিধার আওতায় আসবেন। যাঁরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হননি, তাঁদের নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ চালিয়ে যাওয়ার আবেদনও করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ঋণ পরিশোধের মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত করা যেতে পারে। ঋণের ধরন অনুযায়ী এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া, যেসব ছোট দোকানদারের ব্যবসা বন্যায় নষ্ট হয়েছে, তাঁদের ঋণ হিসাবে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এর জন্য নতুন করে কোনও জামানত দিতে হবে না। এর আগে বিরোধী দলগুলি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধে ছাড় দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার এবং ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে দাবি জানিয়েছিল।
অসম রাজ্য বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় শিবসাগর জেলায় বন্যার জলে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে বন্যায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০। বর্তমানে চরাইদেও, গোলাঘাট, যোরহাট এবং শিবসাগর—এই চার জেলায় প্রায় ২ লক্ষ ১২ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চরাইদেও জেলা, যেখানে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ বন্যার প্রভাবে রয়েছেন। এরপর রয়েছে শিবসাগর ও যোরহাট।
তিনি বলেন, এই বন্যাকে “অস্বাভাবিক, অত্যন্ত তীব্র এবং দ্রুত আঘাত হানা দুর্যোগ” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ারও আবেদন করা হয়েছে, যাতে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন ও সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে আরও নমনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তবে কেন্দ্রের কাছে ঠিক কত টাকা চাওয়া হয়েছে, তা তিনি জানাননি।
Kolkata,West Bengal
