Last Updated:
Baidyapur Vidyapith: যে বিদ্যালয়ে বছরের পর বছর ছাত্রীরা নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করেছে, তা হঠাৎ কেবল ছাত্রদের স্কুল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করায় শোরগোল কালনায়। রেজিস্ট্রেশনের ঠিক আগের মুহূর্তে শিক্ষা দফতরের এই অদ্ভুত তথ্যের কারণে এক বছর নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দিন গুনছে শতাধিক পরিবার।
কালনা, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: পরিচিত ছিল কো-এড বিদ্যালয় হিসেবেই, কিন্তু হঠাৎ বয়েজ হয়ে যাওয়ায় এবার চরম সমস্যায় ছাত্রীরা। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার স্বপ্ন নিয়ে খুশি মনে বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল শতাধিক ছাত্রী। কয়েক মাস ক্লাসও করেছে। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়েই মাথায় যেন বাজ পড়ে তাদের। শিক্ষা দফতরের পোর্টালে হঠাৎ দেখা যায় যে বিদ্যালয়ে তারা ভর্তি হয়েছে সেটি কো-এড নয়, শুধুমাত্র বয়েজ স্কুল! আর তারপরই একসঙ্গে বাতিল হয়ে যায় ১২০ জন ছাত্রীর রেজিস্ট্রেশন। স্বভাবতই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও এখন অনিশ্চয়তার মুখে তাদের ভবিষ্যৎ।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “সমস্যা হচ্ছে ১৯৭৬ সাল থেকে যে বিদ্যালয়টা কো-এড ছিল সেটা ২০২৬ সালে আমরা জানতে পারলাম বয়েজ হয়ে গিয়েছে। ছাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন করতে সমস্যা হচ্ছে। আমাদের আগে জানানো হয়নি স্কুলটা বয়েজ স্কুল। এই গাফিলতি শিক্ষা দফতরের তো বটেই, কেন না জানিয়ে যে স্কুলটা কো-এড হিসেবে চলে আসছিল সেটাকে বয়েজ করে দেওয়া হল?” ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের কালনা ২ নম্বর ব্লকের বৈদ্যপুর বিদ্যাপীঠের। যদিও এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অন্য জায়গায়। কারণ, এই বিদ্যালয়ে বছরের পর বছর ধরে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ছাত্রীরা ভর্তি হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাও দিয়েছে। শিক্ষা দফতরের তরফে অ্যাডমিট কার্ড থেকে ফল প্রকাশ, সবকিছুই হয়েছে নিয়ম মেনেই। এমনকি গত শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া ছাত্রীরাও কোনও সমস্যায় পড়েনি। বর্তমানে তারাই দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছে এবং এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। অথচ চলতি বছর হঠাৎ করেই শিক্ষা দফতরের পোর্টালে দেখা যায়, এই বিদ্যালয়ে ছাত্রী ভর্তির কোনও অনুমোদনই নেই।
বিদ্যালয়ের ছাত্রী অঙ্কনা গোস্বামী জানিয়েছে, “আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই চিন্তায় আছি। জানতে পারলাম স্কুলটা বয়েজ, কিন্তু গত ৫০ বছর ধরে কো-এড হিসেবেই চলে আসছিল। স্কুলের পরিকাঠামো অত্যন্ত ভাল। এই স্কুল থেকে যেতে চাইনা আমরা, খুব চিন্তায় আছি এখনও রেজিস্ট্রেশন হয় নি।” এরপরই সামনে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকারি নথিতে কোনওদিনই বৈদ্যপুর বিদ্যাপীঠকে কো-এড স্কুল হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অথচ প্রায় ৫০ বছর ধরে এই স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ছাত্রী ভর্তি হয়েছে। তাহলে এতদিন ধরে কীভাবে চলল এই প্রক্রিয়া? কোথায় ছিল প্রশাসনিক গাফিলতি? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে শিক্ষক থেকে অভিভাবক সকলের মুখে।
এদিকে রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা শেষ হতে আর হাতে মাত্র কয়েকদিন। অন্য কোনও বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগও কার্যত নেই। ফলে এক বছরের পড়াশোনা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে ছাত্রীদের। এক অভিভাবক সাবির আলী বলেন, “আমিও এই স্কুলে পড়েছি এটা কো-এড বলেই আমরা এতদিন জানতাম। কিন্তু হঠাৎ বয়েজ করে দেওয়া হল কেন? পড়ুয়ারা খুব অসুবিধায় পড়েছে এখনও রেজিস্ট্রেশন হয়নি। এতগুলো বাচ্ছা এবার কী করবে? এটার সমাধান হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে অতি দ্রুত।” ইতিমধ্যেই জেলা শিক্ষা দফতর-সহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত মহলে বিষয়টি জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের ভর্তি হওয়া ছাত্রীদের স্বার্থে দ্রুত কো-এডের অনুমোদন দেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত মেলেনি কোনও চূড়ান্ত সমাধান। মহকুমা শিক্ষা আধিকারিক জানিয়েছেন, বিষয়টি শিক্ষা দফতর দেখছে। এখন ১২০ জন ছাত্রীর এবং তাদের পরিবারের একটাই আবেদন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে যেন বলি না হয় ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ। এক বছরের পড়াশোনা নষ্ট হওয়ার আগেই দ্রুত সমস্যার সমাধান করে ছাত্রীদের রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করুক শিক্ষা দফতর, এমনটাই আর্জি সকলের।
Barddhaman,West Bengal