Last Updated:
Bankura News: হস্তশিল্পের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত জনপ্রিয় এদেশের অন্যতম প্রাচীন জনপদ কেঞ্জাকুড়া। গ্রামের অলিগলি পেরোলেই ছোট ছোট কর্মশালা দেখা যায়। বিয়ের মরশুমে সেখানে ব্যস্ততা তুঙ্গে।
বাঁকুড়া, নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ ভারতবর্ষের অন্যতম প্রাচীন জনপদ কেঞ্জাকুড়া। ইতিহাসের পাতায় যেমন এই জনপদের নাম উজ্জ্বল, তেমনই শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও এর পরিচিতি সুদূরপ্রসারী। বিশেষ করে হস্তশিল্পের জন্য বহুদিন ধরেই পরিচিত এই অঞ্চল। কাঁসা, কাঠ ও তাঁত শিল্পকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বহু পরিবারের জীবিকা। গ্রামের অলিগলি পেরোলেই চোখে পড়ে ছোট ছোট কর্মশালা, যেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিল্পীরা নিজেদের দক্ষতা দিয়ে তৈরি করে চলেছেন নানা সামগ্রী।
এখন বিয়ের মরশুম। তাই কেঞ্জাকুরার কাঁসা শিল্পে ব্যস্ততা তুঙ্গে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কর্মশালাগুলিতে চলছে ছেনি-হাতুড়ির নিরন্তর শব্দ। কারণ বিয়ে বাড়ির জন্য বেড়েছে কাঁসার থালার চাহিদা। শিল্পীদের দাবি, একটি কর্মশালায় প্রতিদিন প্রায় ৯০ থেকে ১০০টি পর্যন্ত কাঁসার থালা তৈরি হচ্ছে। কোনও থালার ওজন তিন কেজি, কোনওটি পাঁচ কেজি, আবার কোনও কোনও বড় থালার ওজন পৌঁছে যাচ্ছে ১০ কেজি পর্যন্ত। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও বাইরে থেকেও আসছে অর্ডার।
তবে কাঁসা শিল্পের এই সাময়িক ব্যস্ততার মাঝেও দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছে না শিল্পীদের। একসময় কেঞ্জাকুরার কাঠ শিল্প ও তাঁত শিল্পও অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু আধুনিকতার দৌড়ে এবং বাজারের প্রতিযোগিতায় সেই শিল্প আজ অনেকটাই মুমূর্ষ অবস্থায়। নতুন প্রজন্মের অনেকেই আর এই পেশায় আসতে চাইছেন না। ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে বহু পুরনো ঐতিহ্য।
শিল্পীদের আশঙ্কা, আর মাত্র দু’মাস পর বিয়ের মরশুম শেষ হলেই আবার কাঁসা শিল্পে নেমে আসবে মন্দা। তখন কাজের অভাবে সমস্যায় পড়বেন বহু কারিগর। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাঁদের মনে কিছুটা আশার আলো জেগেছে। সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে যদি এই শিল্পগুলিকে নতুন করে তুলে ধরা যায়, তাহলে হয়তো আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কেঞ্জাকুড়ার ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প।
Bankura,Bankura,West Bengal
Bankura News: বিয়ের মরসুম এলেই তুমুল চাহিদা! সকাল থেকে রাত অবধি চলছে কাজ, দু’হাতে রোজগার কেঞ্জাকুরার এই শিল্পীদের