মঙ্গোলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের খোভদ (Khovd) প্রদেশে এক ব্যক্তির শরীরে বিউবোনিক প্লেগ (Bubonic Plague)-এর সংক্রমণ দেখা দেয়। দেশের ন্যাশনাল সেন্টার ফর জুনোটিক ডিজিজেস (NCZD) জানিয়েছে, চূড়ান্ত ব্যাকটেরিওলজিক্যাল পরীক্ষায় সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। খবর প্রকাশ্যে আসতেই গোটা দেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত ব্যক্তি সম্প্রতি প্রতিবেশী বায়ান-উলগি (Bayan-Ölgii) প্রদেশের উলানখুস এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি মারমট নামের এক ধরনের বড় বন্য ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাংস খেয়েছিলেন। এরপরই তাঁর শরীরে বিউবোনিক প্লেগের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে।
এই রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো গলা, বগল বা কুঁচকিতে বড় বড় বেদনাদায়ক ফোলা গাঁট (বিউবো) তৈরি হওয়া। এর সঙ্গে প্রবল জ্বর, দুর্বলতা ও অন্যান্য গুরুতর উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
উল্লেখ্য, বিউবোনিক প্লেগ একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ। তবে আধুনিক চিকিৎসায় এটি সময়মতো শনাক্ত ও অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করলে নিরাময়যোগ্য। তাই এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, মঙ্গোলিয়ায় আইন অনুযায়ী মারমট শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবুও অনেক স্থানীয় বাসিন্দা এই প্রাণীর মাংসকে অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর বলে মনে করেন।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, অতীতেও গ্রীষ্মকালেই মঙ্গোলিয়ায় বিউবোনিক প্লেগের একাধিক সংক্রমণের ঘটনা সামনে এসেছে। বেশ কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গোলিয়ার ২১টি প্রদেশের মধ্যে ১৭টিই বর্তমানে প্লেগে আক্রান্ত বা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ (High Risk Zone) হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই ব্যাকটেরিয়া ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাণ কেড়ে নিতে পারে। তবে বাস্তবে বিষয়টি কিছুটা জটিল। বিউবোনিক প্লেগ মূলত Yersinia pestis ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করতে পারে এবং রক্ত বা ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়লে মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
মধ্যযুগের ‘ব্ল্যাক ডেথ’ মহামারির জন্য এই ব্যাকটেরিয়াই দায়ী ছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, সেই মহামারিতে প্রায় ৫ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে আধুনিক চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে বর্তমানে পরিস্থিতি অতীতের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
ইতিহাসে এই রোগই ১৪শ শতকে ‘ব্ল্যাক ডেথ’ নামে পরিচিত মহামারির কারণ ছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, সেই মহামারিতে শুধু ইউরোপেই ৫ কোটিরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ মহামারি হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে চিকিৎসকদের মতে, বর্তমান সময়ে পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিক ও দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে বিউবোনিক প্লেগ সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।