Last Updated:
Water Crisis : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশের শহর কর্পাস ক্রিস্টি বর্তমানে তীব্র জলসংকটের মুখে। তিন লক্ষেরও বেশি মানুষের বাস এই আধুনিক শহরে। কিন্তু পানীয় জলের ভাণ্ডার প্রায় শেষের পথে।
নয়াদিল্লি : আমেরিকার উন্নত শহরেই জলের তীব্র সংকট! একাই গোটা শহরের সমান জল খরচ করছে একটি কারখানা!
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় শহর কর্পাস ক্রিস্টি বর্তমানে ভয়াবহ জলসংকটের মুখোমুখি। প্রায় ৩ লক্ষের বেশি জনসংখ্যার এই শহরে পানীয় জলের সরবরাহ দ্রুত কমে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে শহরটি মারাত্মক জলসংকটে পড়তে পারে।
এই সংকটের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ, যার মধ্যে অন্যতম দ্রুত শিল্পায়ন। টেক্সাসে তেল ও গ্যাস শিল্পের সম্প্রসারণের পর এলাকায় একাধিক বড় কারখানা গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে চালু হওয়া একটি বৃহৎ প্লাস্টিক-কেমিক্যাল কারখানা প্রতিদিন এতটাই জল ব্যবহার করছে, যা কর্পাস ক্রিস্টির সমস্ত বাসিন্দা মিলে প্রতিদিন যত জল ব্যবহার করেন, তার সমান। এই বিপুল পরিমাণ জল মূলত কারখানার যন্ত্রপাতি ঠান্ডা রাখার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এই সংকট মোকাবিলায় ২০১৭ সাল থেকেই সমুদ্রের নোনাজলকে পানযোগ্য করার (ডিস্যালিনেশন) একটি বৃহৎ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্ল্যান্ট থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩৭.৮ কোটি লিটার বিশুদ্ধ জল সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে আইনি জটিলতার কারণে প্রকল্পটি এখনও বিশ বাঁও জলে।
কর্পাস ক্রিস্টি শহরে ‘ওয়াটার ব্ল্যাকআউট’ চালু করতে হতে পারে। অর্থাৎ, বাসিন্দারা দিনে নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টার জন্যই পানীয় জল পাবেন, বাকি সময় জল সরবরাহ বন্ধ থাকবে। তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগতে পারে শিল্পক্ষেত্রে। পর্যাপ্ত জল না থাকলে তেল শোধনাগার (রিফাইনারি) এবং বিভিন্ন রাসায়নিক কারখানার উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে হতে পারে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে শুধু কর্পাস ক্রিস্টি নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরও অনেক উপকূলীয় শহর একই ধরনের গুরুতর জলসংকটের মুখোমুখি হতে পারে। এই পরিস্থিতির পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনও বড় ভূমিকা রেখেছে। গত কয়েক বছরে টেক্সাসে রেকর্ড মাত্রার খরার দেখা মিলেছে। যদিও ২০২৬ সালে কিছুটা ভালো বৃষ্টিপাত হয়েছে, তবুও শহরের জলাধারগুলিতে এখনও পর্যাপ্ত জল জমেনি। ফলে সংকট পুরোপুরি কাটেনি।
Kolkata,West Bengal
