কাবো ভার্দে ম্যাকারোনেশিয়া (Macaronesia) অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এই অঞ্চলের অন্যান্য দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে রয়েছে আজোরেস (Azores), ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ (Canary Islands), মাদেইরা (Madeira) এবং স্যাভেজ দ্বীপপুঞ্জ (Savage Isles)।
দেশটির ইতিহাস:
যদিও পর্তুগিজদের আগমনের আগে দ্বীপগুলিতে মানুষের বসবাস ছিল—এমন কোনও চূড়ান্ত প্রমাণ নেই, তবুও ধারণা করা হয় যে এর আগের শতাব্দীগুলিতে ফিনিশীয়, মুর এবং আফ্রিকানরা (Phoenicians, Moors, and Africans) এখানে এসেছিলেন। তবে ১৫শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে পর্তুগিজ নাবিক ডিয়োগো গোমেস ও ডিয়োগো আফোনসো, ভেনিসীয় অভিযাত্রী আলভিসে কা’ দা মোস্তো (Alvise Ca’ da Mosto) এবং জেনোয়িজ নাবিক (Genoese Navigators) আন্তোনিও (António) ও বার্তোলোমেউ দা নোলিই (Bartólomeu da Noli) প্রথম এই দ্বীপপুঞ্জ সম্পর্কে লিখিত বিবরণ দিতে শুরু করেন। এর কিছুদিন পরই দ্বীপগুলিকে সক্রিয়ভাবে উপনিবেশে পরিণত করা এবং সেখানে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়।
১৪৬২ সালে পর্তুগাল থেকে প্রথম বসতি স্থাপনকারীরা সাও তিয়াগো (সান্তিয়াগো) দ্বীপে এসে পৌঁছান। পরবর্তীকালে সেখানে গড়ে ওঠে ক্রান্তীয় অঞ্চলের প্রাচীনতম ইউরোপীয় শহর—রিবেইরা গ্রান্দে (বর্তমান Cidade Velha)। মাদেইরার আগের উপনিবেশের সাফল্য অনুসরণ করার উদ্দেশ্যে সেখানে আখের চাষ শুরু হয়। কিন্তু কাবো ভার্দের শুষ্ক জলবায়ু এই চাষের জন্য ততটা অনুকূল ছিল না। তবে আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে ক্রীতদাস বাণিজ্যের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে দ্বীপগুলির গুরুত্ব ও সমৃদ্ধি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
Photo Courtesy: Barcelo
ত্রিভুজাকার বাণিজ্য ব্যবস্থার বিকাশের ফলে কাবো ভার্দে ধীরে ধীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকূলবর্তী বাণিজ্যকেন্দ্র (Offshore Entrepôt) হয়ে ওঠে। এই বাণিজ্য ব্যবস্থায় ইউরোপ থেকে উৎপাদিত পণ্য এনে আফ্রিকা থেকে ক্রীতদাসে পরিণত করা মানুষদের বিনিময়ে নেওয়া হত। এরপর সেই দাসদের নতুন বিশ্বের (আমেরিকা মহাদেশের) বিভিন্ন বাগানে বিক্রি করা হত এবং সেখান থেকে উৎপাদিত কাঁচামাল জাহাজে তুলে ইউরোপে ফিরিয়ে আনা হত। ফলে কাবো ভার্দে ইউরোপীয় সস্তা প্রস্তুত পণ্য, আগ্নেয়াস্ত্র, রাম, কাপড়-সহ নানা সামগ্রীর বিনিময়ে ক্রীতদাসে পরিণত করা মানুষ, হাতির দাঁত ও সোনার বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
কাবো ভার্দে বিশেষভাবে পরিচিত ছিল তাদের পানো কাপড়ের (Pano Clothes) জন্য। এই কাপড় সাধারণত ছয়টি তুলোর কাপড়ের ফালি জুড়ে তৈরি করা হত। কাবো ভার্দেতেই উৎপাদিত তুলো গাঢ় নীল (ইন্ডিগো) রঙে রঞ্জিত করে সরু তাঁতে বুনতেন সেখানকার মানুষরা। মূল ভূখণ্ডে ক্রীতদাস বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই পানো কাপড় অত্যন্ত মূল্যবান বিনিময়-মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হত। উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে কয়েক হাজার ক্রীতদাসকে প্রথমে কাবো ভার্দে দ্বীপপুঞ্জে আনা হত এবং সেখান থেকে বিশ্বের অন্যান্য জায়গায়, বিশেষ করে উত্তর ব্রাজিলে পাঠিয়ে দেওয়া হত।

Representative/AI Image
কেপ ভার্দে নাকি ক্যাবো ভার্দে?
দেশটির সরকারি নাম কাবো ভার্দে (Cabo Verde), যদিও Cabo Verde এবং Cape Verde—উভয় নামেরই অর্থ ‘সবুজ অন্তরীপ’ (Green Cape)। অতীতে বিভিন্ন ভাষায় দেশটির নামের ভিন্ন ভিন্ন রূপ ব্যবহার করা হত। যেমন, ইংরেজিতে বহুল ব্যবহৃত নাম ছিল কেপ ভার্দে।
তবে ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে কাবো ভার্দে সরকার অনুরোধ জানায় যে, অন্যান্য ভাষায় দেশটির নাম উল্লেখ করার সময়ও পর্তুগিজ নাম Cabo Verde-ই ব্যবহার করা হোক। (উল্লেখ্য, পর্তুগিজ ভাষাই কাবো ভার্দের সরকারি ভাষা।)
কেপ ভার্দের কয়েকজন বিখ্যাত ফুটবলারের নাম:
‘দ্য ব্লু শার্কস’ (পর্তুগিজে Tubarões Azuis) হলো ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র কাবো ভার্দের জাতীয় ফুটবল দলের ডাকনাম। এই দলে কাবো ভার্দের বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী সম্প্রদায়ের এমন অনেক খেলোয়াড় রয়েছেন, যারা বিভিন্ন দেশের ফুটবল লিগে খেলেছেন।
দলের উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন ফরোয়ার্ডে খেলা ডাইলন লিভ্রামেন্তো ও রায়ান মেন্ডেস, ডিফেন্ডার স্টিভেন মোরেইরা, লোগান কস্তা এবং রবার্তো “পিকো” লোপেস, পাশাপাশি গোলরক্ষক জোসিমার দিয়াস, যিনি ‘ভোজিনহা’ (Vozinha) নামে বেশি পরিচিত।
ব্লু শার্কসের প্রধান কোচ হলেন পেদ্রো ব্রিতো, যিনি ‘বুবিস্তা’ (Bubista) নামেই বেশি পরিচিত। তিনি নিজেও কাবো ভার্দের জাতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও খেলেছেন।