Last Updated:
বৃহস্পতিবারের ঘটনার সময় অভিযুক্ত মণীশ গুপ্তর স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না৷ তবে তাঁদের ১৯ বছর বয়সি ছেলে বাড়িতেই ছিল৷ খুন করার পর নীচে নেমে এসে ছেলেকে সবকিছু বলেন অভিযুক্ত চিকিৎসক৷
১৫ বছরের পুরনো পরিচারিকা৷ তাঁকেই নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন দিল্লির চিকিৎসক মণীশ গুপ্ত৷ মৃত ওই বাঙালি পরিচারিকার নাম মীনা হালদার৷
পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লির অভিজাত এলাকা মাউন্ট কৈলাসে নিজেদের আবাসনের ছাদে ৪৫ বছর বয়সি মীনাকে নৃশংস ভাবে হত্যা করেন ৫০ বছর বয়সি মণীশ গুপ্ত৷ খবর পেয়ে পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়, তখন ছাদে ওঠার সিঁড়িতে মৃত পরিচারিকার দেহের কাছেই বসেছিলেন অভিযুক্ত ওই চিকিৎসক৷
সূত্রের খবর, পুলিশকে দেখেই অভিযুক্ত মণীশ গুপ্ত বলেন, ‘আমাকে ফাঁসি দিয়ে দিন৷’ এর পরই ওই চিকিৎসককে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ হাড় হিম করা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রীতিমতো শিউরে উঠেছে দিল্লিবাসী৷
আদতে উত্তর চব্বিশ পরগণার বাসিন্দা মীনা হালদার গত ১৫ বছর ধরে গুপ্ত পরিবারে পরিচারিকার কাজ করতেন৷ ছেলেকে নিয়ে দিল্লিতেই থাকতেন তিনি৷ গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ দিল্লির ওই আবাসনে গুপ্ত পরিবারের ফ্ল্যাটে অন্যান্য দিনের মতো কাজে গিয়েছিলেন মীনা৷ জামাকাপড় মেলতে ছাদে গেলে পিছন থেকে এসে নিজের ছেলের ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে তাঁর উপরে হামলা চালান অভিযুক্ত মণীশ গুপ্ত৷ ব্যাট দিয়ে বার বার মাথায় আঘাত করার পর ছুরি দিয়ে মীনার গলাও কেটে দেন তিনি৷
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গত প্রায় দশ বছর ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ৫০ বছর বয়সি মণীশ গুপ্ত৷ মানসিক অবসাদ এবং অবসেসিভ- কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার (ওসিডি)-র জন্য ওষুধও খাচ্ছিলেন তিনি৷ দিল্লি পুলিশের এক সিনিয়র অফিসারের দাবি, সম্প্রতি হিংস্র ভাবনাচিন্তা আসছিল মণীশ গুপ্তর মাথায়৷ নিজেকে অথবা পরিবারের সদস্যদের আঘাত করার কথাও ঘুরপাক খাচ্ছিল তাঁর মনে৷ অভিযুক্ত মণীশ গুপ্তর মেডিক্যাল হিস্ট্রি-র পাশাপাশি তিনি ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা৷
বেশ কিছুদিন ধরেই মীনাকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দিতে চাইছিলেন মণীশ গুপ্ত৷ কিন্তু মণীশের এই প্রস্তাব মেনে নেননি তাঁর স্ত্রী৷ পেশায় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক মণীশের স্ত্রী স্বামীকে মনে করিয়ে দেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিচারিকা হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন মীণা৷ এমন কি, যত্ন সহকারে মণীশের ক্যান্সার আক্রান্ত মায়েরও দেখাশোনা করেছেন তিনি৷ ১৫ বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করা মীনা গুপ্ত পরিবারের একজন সদস্যের মতোই হয়ে উঠেছিলেন৷
Kolkata,West Bengal
Jun 20, 2026 10:27 PM IST
