Last Updated:
বৃহস্পতিবার সকালে অন্যান্য দিনের মতোই কাজে বেরিয়েছিলেন মীনা হালদার৷ সাড়ে এগারোটা নাগাদ তাঁর মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হয়৷
১৫ বছর ধরে বাড়ির পরিচারিকা হিসেবে কাজ করছিলেন৷ সেই বাড়িতেই নৃশংস পরিণতি হল বাঙালি মহিলার৷ দিল্লির অভিজাত মাউন্ট কৈলাশ এলাকার আবাসনে ৪৫ বছর বয়সি মীনা হালদারকে প্রথমে ব্যাট দিয়ে বার বার মেরে এবং তার পর ছুরি দিয়ে আঘাত করে খুন করার অভিযোগে পেশায় চিকিৎসক মণীশ গুপ্ত নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷
জানা গিয়েছে, দিল্লির ওই চিকিৎসকের পরিবারে গত ১৫ বছর ধরে পরিচারিকার কাজ করতেন মীনা৷ কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরেই মীনাকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দিতে চাইছিলেন মণীশ গুপ্ত৷ কিন্তু মণীশের এই প্রস্তাব মেনে নেননি তাঁর স্ত্রী৷ পেশায় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক মণীশের স্ত্রী স্বামীকে মনে করিয়ে দেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিচারিকা হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন মীণা৷ এমন কি, যত্ন সহকারে মণীশের ক্যান্সার আক্রান্ত মায়েরও দেখাশোনা করেছেন তিনি৷
যদিও স্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি মণীশ৷ তাঁর বিশ্বাস ছিল, মীনার জন্যই বাড়িতে অশুভ শক্তি ছড়িয়ে পড়ছে৷ সেই বিশ্বাস থেকেই মণীশ গুপ্ত মীনা হালদার নামে ওই পরিচারিকাকে খুন করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷ তবে মীনা অশুভ শক্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে বলেই মণীশ তাঁকে খুন করেছেন, এমন কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি বলেই দাবি করেছে পুলিশ৷
গতকাল সকালে নিজেদের আবাসনের ছাদেই মীনাকে খুন করেন মণীশ৷ সেই সময় মণীশের স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না৷ তাঁদের সন্তানও বাড়ির বাইরে ছিল৷ প্রথমে মীনাকে একটি ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে বারংবার আঘাত করেন মণীশ গুপ্ত৷ এর পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে ছুরি দিয়ে মীনাকে কোপান ওই চিকিৎসক৷
ওই আবাসনেরই এক বাসিন্দা ছাদের উপরে মীনার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন৷ পুলিশ এসে মীনার রক্তাক্ত দেহের পাশেই একটি রক্তমাখা ক্রিকেট এবং ছুরি উদ্ধার করে৷ মীনার দেহ যেখানে পড়েছিল, তার থেকে কিছুটা দূরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন অভিযুক্ত মণীশ গুপ্ত৷
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, গত প্রায় দশ বছর ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন মণীশ গুপ্ত৷ অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার বা ওসিডি-তেও ভুগছিলেন তিনি৷ যদিও মণীশ গুপ্তর প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তাঁর ব্যবহারে কোনওদিনই কোনও অস্বাভাবিকতা চোখে পড়েনি তাঁদের৷
Kolkata,West Bengal
