Last Updated:
মা ও মেয়ে একসঙ্গে নাচলেন স্টেজে৷ দেখে খুশি হলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়৷ ছোট থেকে মায়ের কাছে নাচ শিখেছেন সানা, তিনি নাচেন ভাল৷ অনেক দিন পর আবার মায়ের সঙ্গে স্টেজ শেয়ার করলেন৷
কলকাতা: কিংবদন্তি ওড়িশি নৃত্য গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষ্যে দু’দিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান ভারতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠিত হল৷ দীক্ষা মঞ্জরি এই উদ্যোগে সামিল ছিলেন ডোনা৷ সঙ্গে ছিলেন তাঁর মেয়ে সানা সহ বিভিন্ন ধারার নৃত্য শিল্পী ও প্রতিষ্ঠান৷
দীক্ষা মঞ্জরির প্রতিষ্ঠাতা বিখ্যাত ওড়িশি নৃত্য শিল্পী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়, আয়োজন করেছিলেন দু’দিন ব্যাপি এক শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান৷ উপলক্ষ্য ছিল কিংবদন্তি ওড়িশি নৃত্য গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের জন্ম শতবর্ষ উদযাপন। আয়োজনে সহযোগিতায় ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়৷ তিনি সামনের সারিতে বসে স্ত্রী ও মেয়ের পারফরমেন্স দেখলেন৷
ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের অন্যতম নৃত্য গুরু ছিলেন কেলুচরণ মহাপাত্র। এমনকি দীক্ষা মঞ্জরির শুরুও তাঁরই পরিকল্পনা মাফিক হয়। তিনি চেয়েছিলেন কলকাতায় এমন একটা প্রতিষ্ঠান হোক যেখানে তিনি নৃত্য চর্চা করতে পারবেন । তখনও দীক্ষা মঞ্জরি নামকরণ হয়নি। পরে ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের উদ্যোগে দীক্ষা মঞ্জরি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। গুরু কেলুচরণ মহাপাত্র সেই প্রতিষ্ঠানেও প্রতিবছর এসেছেন কর্মশালায়। তবে, এই দু’দিন ব্যাপি শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে শুধুই ওড়িশি নৃত্য পরিবেশন নয়, ছিল নানা নৃত্য ধারার বিশিষ্ট শিল্পী ও নৃত্য প্রতিষ্ঠানের নৃত্য পরিবেশনা। এর মধ্যে প্রথম দিনে উল্লেখযোগ্য দীক্ষা মঞ্জরি, মাধবী মুদগল, শর্মিলা বিশ্বাস, সুজাতা মহাপাত্র , অরুণা মোহান্তি ( ওড়িশি ), পূর্ণিমা ঘোষ, পলি গুহ, অলকানন্দা রায় ( রবীন্দ্র নৃত্য ), অসীমবন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায় ( কত্থক), কোহিনুর সেন বরাট ( ক্রিয়েটিভ )। দ্বিতীয় দিনে উল্লেখযোগ্য পরিবেশনায় ছিলেন ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়, সানা গঙ্গোপাধ্যায়, রঘুনাথ দাস, দীক্ষা মঞ্জরির শিল্পীবৃন্দ, রতিকান্ত মহাপাত্র,অলকা কানুনগো, রাজীব ভট্টাচার্য, প্রণতি মহান্তি ( ওড়িশি ), সুজাতা রামালিঙ্গম , মালবিকা সেন ( ভরতনাট্যম ), অমিতা দত্ত ( কত্থক ),তনুশ্রী শঙ্কর ( ক্রিয়েটিভ ), বিম্বাবতি দেবী ( মণিপুরী ) প্রমুখ।
এই উদ্যোগ নিয়ে ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় জানান, ” আমি ছেলেবেলা থেকেই নাচ শেখা শুরু করি। আমার পরম সৌভাগ্য যে আমি গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের কাছে দীর্ঘদিন নাচ শেখার সুযোগ পেয়েছিলাম। গুরুজী আমাদের নৃত্য প্রতিষ্ঠান দীক্ষা মঞ্জরিতেও নৃত্য কর্মশালাও করে গেছেন।এই প্রতিষ্ঠানটি ওঁনার ইচ্ছাতেই তৈরি করা হয়।ওঁনার ইচ্ছা ছিল কলকাতায় এমন একটা প্রতিষ্ঠান তৈরি হোক যেখানে উঁনি নৃত্য চর্চা করতে পারবেন। দেখতে , দেখতে দীক্ষা মঞ্জরিরও পঁচিশ বছর হতে চললো। এই অনুষ্ঠানে আমরা বিভিন্ন ধারার নৃত্য গুরু ও প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। আমরা খুবই খুশি যে বিভিন্ন নৃত্য ধারার গুরু ও তাঁদের প্রতিষ্ঠান এই নৃত্য উৎসবে অংশগ্রহণ করলেন। কিংবদন্তি নৃত্য শিল্পী তথা গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে এ আমাদের সকলের পক্ষ থেকে এক আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি।”
