ফ্লোরিডার জনসভায় ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা হয়তো আরও এক বার ছোটখাটো ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান চালাতে পারি।’’ ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক অভিযানের নাম ‘এপিক ফিউরি’। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এর আগে তুরস্কে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত এবং সিরিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে ওয়াশিংটনের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত টম বারাক জানিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহান্তে ইরানে হামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে সফরের সময় পডকাস্ট সঞ্চালক মারিয়ো নওফালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘এই সপ্তাহান্তে কি হামলা হতে পারে? অবশ্যই।’’
দূতের মন্তব্য থেকে দূরত্ব ট্রাম্পের
তবে জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে ইরানে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে প্রশ্নের মুখে বারাকের মন্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা যায় ট্রাম্পকে। ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘উনি কি আমার রাষ্ট্রদূত? উনি বেশ ক্ষমতাশালী ব্যক্তি, আমার মনে হয়। যদি তা-ই হয়, তা হলে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’’
ইরান নীতি নির্ধারণে সরাসরি ভূমিকা নেই বারাকের। তিনি আরও জানিয়েছেন, ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্দেশ্য আমেরিকার নেই। তাঁর কথায়, ‘‘আপনারা যদি গোটা বিশ্ব, আমাদের সহযোগী দেশগুলি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলকে ক্রমাগত হুমকি দিতে থাকেন, তা হলে তার পরিণতি ভুগতে হবে। তবে সেই পরিণতি সরকার পরিবর্তন হবে না।’’
যুদ্ধের আবহে বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ
ইরান চুক্তিতে রাজি হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘‘ওরা যদি বুদ্ধিমান হয়, তা হলে বলবে, ‘চলুন, কাজ শুরু করা যাক।’’’
চলতি মাসের গোড়ায় ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আমেরিকা আর কোনও হামলা চালাবে না। ওই নির্বাচনের মাধ্যমেই মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে।
ইতিমধ্যেই সংঘাতের আট মাস পূর্ণ হতে চলেছে। ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলা এবং লেবাননে ইজরায়েলের আক্রমণে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। যুদ্ধের জেরে জ্বালানির দামও বেড়েছে। ফলে আমেরিকার নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে।