সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “ফ্রান্সে যা ঘটছে, তার সঙ্গে অভিবাসনের (ইমিগ্রেশন নীতি) সম্পর্ক রয়েছে। স্কুল বা অন্য কোনও কিছুর সঙ্গে নয়।” একই সঙ্গে ফ্রান্সের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার জন্য মাক্রঁকে পরামর্শ দেন তিনি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আগের এক কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, “অনেক দিন আগেই আমি ওঁকে বলেছিলাম, আপনি বড় ভুল করছেন। আপনি গোটা বিশ্বের মানুষকে দেশে ঢুকতে দিচ্ছেন। সারা বিশ্ব থেকে মানুষ ওখানে আসছিল।”
এর পরেই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের মন্তব্য, “খুব শীঘ্রই প্যারিস একটি মুসলিম শহরে পরিণত হবে।” তাঁর দাবি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা এবং অপরাধীদের দেশ থেকে সরিয়ে না দিলে ইউরোপের অস্তিত্বই সংকটের মুখে পড়তে পারে।
সপ্তাহান্তে ফ্রান্সজুড়ে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ এবং সরকারি পরিষেবায় পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না হওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্রমে সেই বিক্ষোভ ভয়াবহ হিংসার চেহারা নেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ফ্রান্সে দেখা যাওয়া সবচেয়ে বড় পথ-অশান্তিগুলির মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে এই ঘটনা।
রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ অংশ নেন। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছিল। প্রথম দিকে মূলত ছাত্রছাত্রীরা স্কুলের পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন।
পরে সেই অশান্তি আরও ছড়িয়ে পড়ে। মুখোশ পরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। বিভিন্ন সরকারি ভবনে ভাঙচুর চালানো হয়, দোকানে লুটপাট হয় এবং একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
সরকারি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, লিমোজ শহরের পুরসভা ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ৩ হাজারেরও বেশি দোকান লুট করা হয়েছে অথবা ভাঙচুরের শিকার হয়েছে বলে খবর।
দাঙ্গার পর নিরাপত্তা আরও জোরদার ফ্রান্সে
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সুরক্ষা দিতে প্যারিস-সহ ফ্রান্সের একাধিক শহরে আংশিক কার্ফু জারির কথা ঘোষণা করেছে প্রশাসন। সেই তালিকায় রয়েছে লিল এবং লিয়ঁ-র মতো শহরও।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানিয়েছেন, জনজীবনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তিনি বদ্ধপরিকর। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেননি তিনি।
হিংসা মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনা শুরু হয়েছে। বড় শহরগুলির মেয়ররা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এর জবাব চেয়েছেন।
ফ্রান্সের অশান্তির প্রভাব পড়েছে পর্যটন ক্ষেত্রেও। সোমবার প্যারিসের বিখ্যাত লুভর মিউজিয়াম বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে অল্প সংখ্যক ছাত্রছাত্রী বিক্ষোভ দেখাতে জড়ো হয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, ফ্রান্সে বসবাসকারী বা সেখানে ভ্রমণরত আমেরিকার নাগরিকদের বিক্ষোভস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। এখন দেখার, কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কার্ফু জারি করে ফ্রান্স সরকার কত দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারে।