২২ অক্টোবর ব্রিটেন সরকার তাদের ‘Be Ready’ প্রচারাভিযান নতুন করে চালু করেছে। কোনও কারণে স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হলে যাতে পরিবারগুলি অন্তত তিন দিন নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী, বাড়িতে কয়েকটি জরুরি সামগ্রী রাখা উচিত। এর মধ্যে রয়েছে পানীয় জল, দীর্ঘদিন ভালো থাকে এমন খাবার, টর্চ, অতিরিক্ত ব্যাটারি, প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স, নগদ টাকা, পাওয়ার ব্যাঙ্ক এবং হাত দিয়ে ঘোরানো যায় এমন রেডিও।
ব্রিটিশ সরকারের বক্তব্য, বড় কোনও বিপর্যয়ের সময় জরুরি পরিষেবার কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেকের কাছে পৌঁছতে নাও পারেন। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে নিজেদের সামলে রাখার মতো প্রস্তুতি থাকা জরুরি। ব্রিটেনের ২০২৫ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলেও রাশিয়ার আগ্রাসন, সাইবার কার্যকলাপ এবং নাশকতাকে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আমেরিকায় পেন্টাগন ‘FORTRESS’ নামে একটি পরিকল্পনা তৈরি করছে বলে Fortune-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর লক্ষ্য, বাইরের সাহায্য ছাড়াই যাতে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলি ৯০ দিন পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে পারে। এই পরিকল্পনায় উন্নত বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জ্বালানির মজুত বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
জাপানের ক্ষেত্রে জরুরি প্রস্তুতির প্রধান কারণ, দীর্ঘদিনের ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের অভিজ্ঞতা। মন্ত্রী গোষি হোসোনো জানিয়েছেন, নতুন Disaster Management Agency আগামী ২ নভেম্বর চালু হলে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে জরুরি প্রস্তুতি সংক্রান্ত আবেদন জানানো হবে। সেখানে পরিবারগুলিকে অন্তত তিন দিন, সম্ভব হলে এক সপ্তাহ চলার মতো সামগ্রী মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নও এই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে গৃহীত ‘Preparedness Union Strategy’-তে বলা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টা বাইরের সাহায্য ছাড়াই নিজেদের সামলানোর মতো প্রস্তুতি থাকা উচিত।
ফিনল্যান্ড তাদের শস্যের মজুত এমন পর্যায়ে বাড়িয়েছে, যাতে প্রায় নয় মাসের চাহিদা মেটানো যায়। সুইডেন আবারও ‘Total Defence’ বা সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর জোর দিয়েছে। অন্যদিকে, পোল্যান্ড ২০২৫ সালে নাগরিক সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন পাস করেছে। এই দেশগুলির উদ্বেগ শুধু সম্ভাব্য সামরিক আক্রমণ নিয়ে নয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহণ নেটওয়ার্ক এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় হামলা হলে সেনা সীমান্ত পেরিয়ে না এলেও একটি দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে।
কোনও বড় বিপর্যয়ের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ বিভ্রাট, প্রবল ঝড়, বন্যা কিংবা সাইবার হামলার কারণে একসঙ্গে একাধিক পরিষেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই সময় উদ্ধারকাজ, হাসপাতাল চালু রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো কাজে প্রশাসনকে অগ্রাধিকার দিতে হয়। ফলে প্রত্যেক পরিবারের কাছে দ্রুত সাহায্য পৌঁছনো সম্ভব নাও হতে পারে। বাড়িতে তিন দিনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী থাকলে এই প্রাথমিক সময়টা সামলানো সহজ হয়।
না, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন—এমন কোনও প্রমাণ নেই। বিভিন্ন দেশের জরুরি প্রস্তুতির পিছনে আলাদা আলাদা কারণ রয়েছে। আমেরিকার ক্ষেত্রে সামরিক ঘাঁটির স্বনির্ভরতা গুরুত্বপূর্ণ। জাপানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি বড় বিষয়। আর ন্যাটোর পূর্ব প্রান্তের দেশগুলিতে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ বেশি। অতএব, এই উদ্যোগগুলিকে আসন্ন বিশ্বযুদ্ধের জন্য একযোগে জারি করা কোনও সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা ঠিক নয়।