ঢাকা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে পাকিস্তানের জনক মহম্মদ আলি জিন্নাহ্-র ছবি টাঙানো হল ঢাকা ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল স্টুডেন্টস (DUCSU) ইউনিয়ন মিউজিয়ামে। সেই নিয়ে অশান্তি চরমে উঠল বাংলাদেশে। একাধিক ছাত্র সংগঠন এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। বর্তমানে DUCSU-কে নেতৃত্ব দেয় ইসলামি ছাত্র শিবির, যা আসলে বাংলাদেশে জামাত-ই-ইসলামির সংগঠন। বিষয়টি সামনে আসতেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। (Dhaka University)
DUCSU মিউজিয়াম সংস্কারের কাজ চলছিল। রবিবার শেষ পর্যন্ত দরজা খুলে দেওয়া হয়। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফতিমা তসনিম জুমা থেকে এসএম ফারহাদ এবং অন্যরা। সেখানেই দেখা যায়, মুজিবুরের ছবি সরিয়ে সেই জায়গায় জিন্নাহ্-র ছবি বসানো হয়েছে। মুজিবুরের একার কোনও বড় ছবিই নেই সেখানে। ‘প্রথম আলো’ জানায়, ১৯৭৪ সালে মুজিবুরের দুই ছেলের বিয়ের ছবি বেরিয়েছিল সংবাদপত্রে। সেরকম কিছু কম গুরুত্বপূর্ণ ছবি রয়েছে শুধু। ভাষা আন্দোলন থেকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাস ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন, ১৯৭১ সালের সেই ঐতিহাসিক বক্তৃতার কোনও ছবি পাওয়া যায়নি খুঁজেও। (Bangladesh News)
সেই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে DUCSU-এর আধিকারিক ফতিমা জানান, ‘ফ্যাসিবাদী নেতাদের’ ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জিন্নাহ্-র ছবি টাঙানো নিয়ে প্রশ্ন করলে ফতিমা জানান, জিন্নাহ্-কে মহিমান্বিত করা হয়নি। ঐতিহাসিক ঘটনাবলী তুলে ধরতেই তাঁর ছবি টাঙানো হয়েছে। DUCSU-এর এক কর্মী bdnews24.com-এ মুখ খোলেন। তিনি জানান, ২০২৫ সালে DUCSU নির্বাচনের আগে পর্যন্ত মুজিবুরের ছবি ছিল। ইউনাইটেড স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স এবং ইসলামি ছাত্র শিবিরের হাতে ইউনিয়নের দখল ওঠার পর সরিয়ে নেওয়া হয় সেগুলি।
আরও পড়ুন: পদত্যাগ করলেন আরও এক AI গবেষক, ভয়ঙ্কর কিছু ঘটতে চলেছে পৃথিবীতে?
তবে মুজিবুরের ছবি সরিয়ে জিন্নাহ্-র ছবি টাঙানোর বিষয়টি ভাল ভাবে গ্রহণ করেননি ঢাকা বিশ্ববিদ্য়ালয়ের পড়ুয়ারা। সোমবার DUCSU মিউজিয়ামে ঢুকে জিন্নাহ্-র ছবি ছিঁড়ে ফেলেন আবু তায়েব হাবিলদার নামে এক পড়ুয়া। তিনি জানান, বাংলা ভাষার বিরোধী ছিলেন জিন্নাহ্। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দেন তিনি। DUCSU-তে সেই জিন্নাহ্-র ছবি থাকবে কেন, প্রশ্ন তোলেন তিনি। ইচ্ছাকৃত ভাবে বিতর্কিত চরিত্রগুলিকে আলোচনার কেন্দ্রে তুলে আনা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন আবু।
বাংলাদেশের শাসকদল, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলও এই ঘটনার নিন্দা করেছে। তাদের অভিযোগ, ইসলামি ছাত্র শিবিরের নিয়ন্ত্রণে থাকা DUCSU নিজেদের ‘পাকিস্তান প্রেম’ ফুটিয়ে তুলছে। পড়ুয়াদের গণতান্ত্রিক মানসিকতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তচিন্তার পরিবেশকে ধর্তব্যের মধ্যে আনছে না তারা। সোমবার জামাত-ই-ইসলামির গোলাম আজমের একটি ছবি টাঙিয়ে তাতে জুতোও ছোড়া হয়। মানবতা বিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে গোলাম।
সেই পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে গোটা ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গড়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ছবি সরানো এবং নতুন ছবি টাঙানোয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়নি। যে বা যাঁরা এই কাজ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।