Last Updated:
East Medinipur News: নদীতে মীন ধরা কিন্তু মোটেও সহজ নয়। অনেক সময় প্রবল জলোচ্ছ্বাস বা চোরাবালির ভয় থাকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা নোনা জলে দাঁড়িয়ে চর্মরোগের প্রকোপও বাড়ছে মীন সংগ্রাহকদের মধ্যে। তবুও পেটের টানে প্রতিদিন ছোট বড় জাল নিয়ে মেতে ওঠে কয়েকশো পরিবার।
তমলুক, সৈকত শী: উত্তাল রূপনারায়ণ। জোয়ারের জল যখন কূলে আছড়ে পড়ে, তখন তা কেবল পলিমাটিই বয়ে আনে না, সঙ্গে নিয়ে আসে প্রান্তিক মানুষের অন্নসংস্থানের সুযোগ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক ও নন্দকুমার মহিষাদলের রূপনারায়ণ তীরবর্তী এলাকার মানুষের কাছে এই নদই একমাত্র ভরসা। রাজ্য কর্মসংস্থানের অভাব। তাই অনেকেই এখন বিকল্প পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন নদীর বুক থেকে গলদা চিংড়ির ‘মীন’ বা রেণু সংগ্রহকে। ভোর হোক বা মাঝরাত, নদীর জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করেই চলে এই জীবনসংগ্রাম। যখন নদীতে ভাটা শুরু হয়, তখনই জাল কাঁধে নেমে পড়েন পুরুষ থেকে মহিলারা। কোমর সমান জলে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে মীন ধরার পালা।
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, গত কয়েক বছরে কাজের বাজার বেশ মন্দা। এক সময় রূপনারায়ণের পাড়ে পাড়ে ছোট-বড় অনেক কাজ জুটত, কিন্তু বর্তমানে সে সুযোগ কমেছে। তটবর্তী গ্রামগুলির মানুষ জানিয়েছেন, বড় কোনও কলকারখানা না থাকায় দিনমজুরি বা চাষের ওপর নির্ভর করতে হয়। ইয়াস বা আমফানের মতো ঘূর্ণিঝড়ের পর চাষের জমিতে নোনা জল ঢুকে পড়ায় ফলন অনেক কমে গিয়েছে। ফলে সেই জায়গায় নদীর জল থেকে সরাসরি মীন ধরে তা বাজারে বিক্রি করলে হাতে গরম নগদ টাকা পাওয়া যায়। যা সংসার চালাতে বড় ভরসা রূপনারায়ণ নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষের।
নদীতে মীন ধরা কিন্তু মোটেও সহজ নয়। অনেক সময় প্রবল জলোচ্ছ্বাস বা চ চোরাবালির ভয় থাকে। তায় আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা নোনা জলে দাঁড়িয়ে থাকায় চর্মরোগের প্রকোপও বাড়ছে মীন সংগ্রাহকদের মধ্যে। তবুও পেটের টানেই প্রতিদিন ছোট বড় জাল নিয়ে মেতে ওঠেন কয়েকশো পরিবার। নদীতে চিংড়ি মাছের মীন সংগ্রহক শ্রীমন্ত মাইতি বলেন, “নদী আমাদের ফেরায় না। জোয়ারের শেষে যখন ভাটা নামে, তখন নদীতে নেমে জাল ঠেলে গলদা চিংড়ির মীন সংগ্রহ করা হয়। একেক দিন ৫০০ থেকে ৭০০টি গলদা চিংড়ির মীন জালে ওঠে। এখন বাজারে রয়েছে। তাই দাম ভাল। এতেই সংসারটা টেনে নিয়ে যাচ্ছি।”
রূপনারায়ণ নদের তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রাম থেকে মীন সংগ্রাহকদের এই ছবি এখন নিত্যনৈমিত্তিক। এই সংগৃহীত মীন ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে চলে যায়, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সহ পার্শ্ববর্তী জেলা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন মাছের ভেড়িতে। এই পেশায় বিপদের ঝুঁকি থাকলেও বিকল্প আয়ের আশায় বৈশাখ মাস থেকে আষাঢ় শ্রাবণ মাস পর্যন্ত গলদা চিংড়ির মীন ধরতে নদীতে নামেন রূপনারায়ণ নদের তীরবর্তী এলাকার মানুষজন। সারা বছর অন্য কাজ করলেও, এই সময় রূপনারায়ণ নদে গলদা চিংড়ির মীন ধরার কাজ করেন তারা। রূপনারায়ণের ঢেউয়ে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এই মানুষজনের কাছে এটা একমাত্র বিকল্প আয়ের উৎস।
Purba Medinipur,West Bengal
East Medinipur News: নদী যখন অন্নপূর্ণা…! পেটের টানে কোমর সমান জলে মীন সংগ্রহের লড়াই, হাতেগরম উপার্জনে হেসেখেলে চলছে সংসার