Last Updated:
Yogadya Temple: ভোররাতে ক্ষীরদীঘির জল থেকে উঠে এলেন দেবী যোগাদ্যা। ভক্তদের দর্শনের জন্য উত্থান মন্দিরে ২৪ ঘণ্টা ধরে রাখা হবে দেবীকে। সেই বিরল মুহূর্তের সাক্ষী হতে ভোর থেকে মঙ্গলকোটের ক্ষীরগ্রামে উপচে পড়ল হাজার হাজার ভক্তের ভিড়।
মঙ্গলকোট, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: নিয়ম মেনে ভোররাতে ক্ষীরদীঘির জল থেকে তুলে আনা হল দেবী যোগাদ্যাকে। এরপর দেবীকে নিয়ে যাওয়া হয় উত্থান মন্দিরে, যেখানে ২৪ ঘণ্টা ধরে ভক্তদের দর্শনের জন্য রাখা হয়েছে তাঁকে। আর সেই বিরল মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে ভোর থেকেই পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের ক্ষীরগ্রামে উপচে পড়ল হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীর ভিড়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও দর্শনার্থীদের মুখে ছিল ভক্তির আবেগ আর মায়ের দর্শন পাওয়ার আনন্দ।
পুজো কমিটির সদস্য রমেন চৌধুরী জানান, ভোর সাড়ে তিনটে থেকে চারটের মধ্যে দেবীকে জল থেকে তোলা হয়। এরপর উত্থান মন্দিরে রাখা হয় দেবীকে, যেখানে আগামী ২৪ ঘণ্টা ভক্তরা দর্শনের সুযোগ পাবেন। তিনি আরও জানান, নির্দিষ্ট সময় মেনে আগামীকাল আবার দেবীকে ক্ষীরদীঘির জলে নামিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়াও ৪ জ্যৈষ্ঠ সূর্যাস্তের পর থেকে মধ্যরাত্রি পর্যন্ত বছরের শেষবারের মতো দেবী দর্শনের সুযোগ পাবেন ভক্তরা।
এবারের মেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ঢেলে সাজানো হয়েছে। মেলা কমিটির সভাপতি বিষ্ণু ঘোষ জানান, প্রতি বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। যেখানে আগে ১০০ থেকে ১৫০ জন পুলিশকর্মী থাকতেন, সেখানে এবার প্রায় ৩৫০ জন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবকও দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এছাড়াও প্রথমবারের মতো মেডিক্যাল টিম ও ফায়ার ব্রিগেডের বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভক্তদের কথাতেও উঠে এসেছে মায়ের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও টান। হুগলির ত্রিবেণী থেকে আসা সঙ্গীতা মজুমদার জানান, প্রায় দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি। বহুবার এখানে এলেও এবারের ভিড় সবচেয়ে বেশি বলে তাঁর দাবি। তাঁর কথায়, “মায়ের টানেই বারবার এখানে ছুটে আসি। এই একটা দিনই মা জল থেকে ওঠেন, তাই দর্শন করতে আসা।” অন্যদিকে কৈচর থেকে আসা সাথী ঘোষ প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষার পর দেবীর দর্শন পান। দীর্ঘ ছয় বছর পর ক্ষীরগ্রামে এসে মায়ের পুজো দিতে পেরে তাঁর মন ভরে গিয়েছে বলে জানালেন।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও বাড়ছে ভক্তসমাগম। শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, কলকাতা, হুগলি এমনকি ভিনরাজ্য থেকেও বহু মানুষ ছুটে এসেছেন ক্ষীরগ্রামে। ভক্তি, আবেগ আর লোকবিশ্বাসকে কেন্দ্র করে এদিন কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয় ক্ষীরগ্রাম।
Barddhaman (Bardhaman),Barddhaman,West Bengal
Yogadya Temple: ক্ষীরদীঘি থেকে উঠলেন মা যোগাদ্যা, সতীর বিরল দর্শনে ভোর থেকে হাজারো ভক্তের ভিড়, ২৪ ঘণ্টা পরই ভাসান, ভক্তিতে মুখর ক্ষীরগ্রাম