মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্টে উঠে এসেছে, তাঁর শরীরে গুলি বা কোনও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে মাথা, ঘাড়, বুক, পাঁজর, ফুসফুস ও লিভার-সহ শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে ভয়াবহ আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারী ও ভোঁতা কোনও বস্তু দিয়ে বারবার আঘাত করার ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. মনিরাজ রঞ্জন জানান, বিমল কুমারের মৃত্যু হয়েছে একাধিক ভারী ও ভোঁতা বস্তুর আঘাতজনিত গুরুতর চোটের (Multiple Hard and Blunt Injuries) কারণে। পোস্টমর্টেমে শরীরের কোথাও ধারালো অস্ত্র বা গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
পোস্টমর্টেম রিপোর্টে বলা হয়েছে, মাথায় ভারী কোনও বস্তু দিয়ে জোরে আঘাত করা হয়েছিল, যার ফলে মস্তিষ্কের ভিতরে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়। ঘাড়ের দুটি প্রধান হাড় ভেঙে গিয়েছিল, যার জেরে শ্বাসরোধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এছাড়া বুকের দুই পাশের একাধিক পাঁজরের হাড়ও ভেঙে যায়।
রিপোর্টে আরও জানা গিয়েছে, হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বিমল কুমারের লিভার ফেটে গিয়েছিল। গলার থাইরয়েড কার্টিলেজ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি ফুসফুস ও বুকের ভিতরেও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
সিভিল সার্জনের মতে, শরীরের ভিতরে লাগাতার রক্তক্ষরণের ফলে শেষ পর্যন্ত হৃদ্যন্ত্র কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ডা. মনিরাজ রঞ্জন স্পষ্ট জানিয়েছেন, পোস্টমর্টেমে শরীরের কোথাও ছুরি, তলোয়ার বা অন্য কোনও ধারালো অস্ত্রের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। গুলিবিদ্ধ হওয়ারও কোনও প্রমাণ মেলেনি। রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট, হামলাকারীরা ভারী ও ভোঁতা কোনও বস্তু দিয়ে বারবার আঘাত করেছিল, যার ফলে শরীরের প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এখন পুলিশি তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে। রিপোর্টে স্পষ্ট হয়েছে, অত্যন্ত নৃশংসভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখন খতিয়ে দেখছে, ঠিক কী ধরনের ভারী বস্তু দিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল এবং কোন পরিস্থিতিতে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশের দাবি, মিথিলেশ জানিয়েছেন দীর্ঘ সময় কাজের চাপ এবং কর্মক্ষেত্রের নানা বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে বিমল কুমারের প্রায়ই বচসা হত। পুরসভার অন্য কর্মীরাও জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল।
রবিবার রাতেও পাটনার উদ্দেশে যাওয়ার সময় তিনি টয়লেটে যাওয়ার জন্য গাড়ি থামাতে চাইলে বিমল কুমার নাকি তা মানতে চাননি। এরপর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের জেরে চালক গাড়ি থামিয়ে গাড়ির ভিতরে থাকা একটি লোহার রড দিয়ে প্রথমে গাড়ির ভেতরেই হামলা চালান। পরে ইও গাড়ি থেকে নামলে তাঁকে একাধিকবার আঘাত করা হয় বলে দাবি পুলিশের।
অভিযোগ, ঘটনার পর চালক গোটা ঘটনাকে দুর্ঘটনা বা দুষ্কৃতীদের হামলা বলে দেখানোর চেষ্টা করেন। গাড়িটিকেও সেইভাবে রেখে অন্য এক কর্মীকে ফোন করে ইও-র উপর হামলার কথা জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরীক্ষা করেছে। অভিযুক্ত যে লোহার রডটি ফেলে দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, সেটির খোঁজে ডুবুরি নামানো হয়েছে। সমস্ত প্রমাণ যাচাইয়ের পরই তদন্তে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে।