Last Updated:
Petrol Price : লাগাতার বাড়ছে জ্বালানির দাম। সারা বিশ্বে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। এরই মধ্যে এবার ভারত সরকারের বড়সড় উদ্যোগ। দেশের মাটির নিচে হবে অভিযান।
Report : Aman Sharma : ভারত খুব শিগগিরই দেশের মাটির নীচে লুকিয়ে থাকা তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন সম্ভাবনা খুঁজতে আবার উদ্যোগী হতে পারে। তবে এখনই খনন শুরু করে নয়, বরং পুরনো ভূগর্ভস্থ তথ্যকে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে নতুনভাবে বিশ্লেষণ করে এই কাজ করা হতে পারে। এর অর্থ, ভারত সরকার আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের ভেতরে তেল ও গ্যাসের ভাণ্ডার অনুসন্ধানে বড়সড় নতুন উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক বিভিন্ন সংস্থাকে এমন এক বৃহৎ প্রকল্পে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। দেশের বিভিন্ন সেডিমেন্টারি বেসিনে পুরনো সিসমিক ডেটা পুনরায় বিশ্লেষণ করা হবে এবং নতুন করে ৩ডি সিসমিক সমীক্ষা চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এর উদ্দেশ্য হল- ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা এবং আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, সরকার চায় বিশেষজ্ঞরা বহু দশক পুরনো ভূতাত্ত্বিক তথ্যকে আজকের আধুনিক ইমেজিং ও বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে আবার পরীক্ষা করুন, যাতে দেখা যায় আগের সমীক্ষাগুলোতে কোনও সম্ভাব্য তেল বা গ্যাসের ভাণ্ডার নজর এড়িয়ে গিয়েছিল কি না!
এই পুরো প্রক্রিয়ায় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের প্রযুক্তিগত শাখা Directorate General of Hydrocarbons সহায়তা করবে। গত সপ্তাহে CNN-News18-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মোদি সরকার ভারতের পূর্ব উপকূলে হাজার হাজার কিলোমিটার জুড়ে একটি বড় সমীক্ষার পরিকল্পনা করছে।
এই বিশাল ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা পরিচালিত হবে পূর্ণিয়া ও মহানদী বেসিন, কৃষ্ণা-গোদাবরী বেসিন, কাবেরী বেসিন এবং আন্দামান (পূর্ব) বেসিনে। সরকার চায় বিশেষজ্ঞ জ্বালানি-সমীক্ষা সংস্থাগুলি সমুদ্রতলের গভীরে কী রয়েছে তা মানচিত্রের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করুক, যাতে বোঝা যায় সেখানে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার আছে কি না!
সিসমিক সমীক্ষাকে প্রায়ই পৃথিবীর “মেডিক্যাল স্ক্যান”-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়। এতে শব্দ তরঙ্গ ভূগর্ভে পাঠানো হয় এবং সেই তরঙ্গের প্রতিফলন বিশ্লেষণ করে মাটির নিচে কী রয়েছে! তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলি কোথায় খনন করা হবে তা নির্ধারণের আগে এই ধরনের সমীক্ষা ব্যবহার করে।
কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, অত্যাধুনিক কম্পিউটিং এবং আধুনিক ডেটা প্রসেসিং প্রযুক্তির মাধ্যমে এমন হাইড্রোকার্বনের সম্ভাবনা খুঁজে পাওয়া যেতে পারে, যা পুরনো প্রযুক্তিতে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েনি। এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হচ্ছে যখন ভারত এখনও আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশের মোট তেলের প্রয়োজনের প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক সংঘাত বা তেলের দামের হঠাৎ বৃদ্ধির সময় জ্বালানি নিরাপত্তা নীতিনির্ধারকদের কাছে সবসময়ই একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
Kolkata,West Bengal
May 26, 2026 10:10 AM IST
