নয়াদিল্লি: নিট প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডে ইস্তফার পর প্রথমবার মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যন্তরমন্তরে প্রতিবাদী পডুয়াদের ভুল বোঝানো হয়েছিল। জেন জি তো আমাদেরই সন্তান, জেন-জি-ই দেশের ভবিষ্যৎ। কিছু মানুষ জেন জি-কে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু, তাদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনও বিষয় ছিল না।’
আরও পড়ুন, প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে এবার উত্তাল ঝাড়খণ্ড, বিধানসভা অভিযান ঘিরে তুলকালাম, মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
জেন জি আন্দোলনের চাপে পিছু হঠে নরেন্দ্র মোদি সরকার। নিটের প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ইস্তফা দেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেছিলেন, ‘একজনের ইস্তফা হয়েছে। যদি আপনারা নোংরা রাজনীতি না ছাড়েন, জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা না আনেন, তাহলে আমরা কারও ইস্তফা ছাড়ব না।’ ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্য়াগের দাবিতে প্রথম থেকেই অনড় ছিলেন আন্দোলনকারীরা। দিকে দিকে, তীব্র আন্দোলনের ছবি ধরা পড়েছিল। এরমধ্য়েই আসে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার খবর।
ইস্তফার মুহূর্তে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে খোলা চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছিলেন, গত ১০ দিনের ঘটনায় আমি মর্মাহত। এটি আমার জন্য ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়। ভারতের যুবশক্তিই এই দেশের প্রকৃত শক্তি।যন্তর মন্তর এবং সারাদেশের পরিস্থিতিকে যেন দেশবিরোধী শক্তিগুলো কাজে লাগাতে না পারে, দেশের ঐক্য বজায় রাখতে হবে, ভারতের একজন ছাত্রেরও ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে, এবং আমাদের সন্তানেরা যেন তাদের সময়টাকে পড়াশোনায় উৎসর্গ করে ও নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার দিকে মনোযোগ দেয়। এই কথা মাথায় রেখে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।’ এরপর আন্তর্জাতিক খ্য়াতিসম্পন্ন পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াংচুক বলেন, যে পদক্ষেপ সরকার আর ধর্মেন্দ্র প্রধানজি নিয়েছেন, সেটাকে স্বাগত জানাই। দেশের যুব সম্প্রদায়কে আমি অভিনন্দন জানাতে চাই। ‘
শুরু থেকেই NEET-এর প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে পড়ুয়াদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছিল কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। দিল্লি আপ প্রধান ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শেষপর্যন্ত ইস্তফা দিতে হল। এটা পুরো গণতন্ত্রের বড় একটা জয়। আমাদের দেশে মানুষের গণতন্ত্রের ওপর থেকে ভরসাই উঠে গেছিল। মানুষ ভাবতে শুরু করেছিল যে সরকার শোনেই না। এত বড় সংঘর্ষ (আন্দোলন) হল এবং শেষপর্যন্ত জনতার কাছে সরকারের অহঙ্কারকে ঝুঁকতে হল।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের কাছেও ধর্না দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদবরা। যা নিয়ে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছিল।এই প্রেক্ষাপটে, আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের চাপে শেষপর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পর এদিন মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন রাহুল গান্ধী।