Last Updated:
Goat Farming Monsoon Tips: গ্রামাঞ্চলের বহু পরিবার এবং বিশেষ করে মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার অন্যতম সহজ পথ হল ছাগল পালন। কিন্তু বর্ষার মরশুম আসলেই বাড়ে মারাত্মক সংক্রামক রোগ ‘পিপিআর’-এর প্রকোপ, যা সঠিক সময়ে প্রতিরোধ না করলে চোখের পলকে ছাগলের মড়ক দেখা দিতে পারে। ফলে মুহূর্তে ভেস্তে যেতে পারে বাড়তি আয়ের পথ!
বসিরহাট, উত্তর ২৪ পরগণা, জুলফিকার মোল্যা: বর্ষায় ছাগলের রোগ ঠেকাতে উদ্যোগ, সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামে শুরু পিপিআর ভ্যাকসিন কর্মসূচি। বর্ষাকালে ছাগলের বিভিন্ন রোগব্যাধির প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে বহু পরিবার ছাগল পালন করে জীবিকা ও সংসারের অতিরিক্ত আয়ের পথ তৈরি করেছেন। তাঁদের মধ্যে মহিলাদের ছাগল পালনের উদ্যোগও উল্লেখযোগ্য। ফলে ছাগলের অসুস্থতা কিংবা রোগে মৃত্যু হলে সরাসরি প্রভাব পড়ে পরিবারগুলির আর্থিক পরিস্থিতিতে।
এই পরিস্থিতিতে ছাগলের অন্যতম সংক্রামক রোগ পিপিআর প্রতিরোধ ও নির্মূল করতে বিশেষ উদ্যোগ নিল প্রশাসন। উদ্যান পালন দফতরের উদ্যোগে সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জ এলাকায় শুরু হয়েছে পিপিআর নির্মূল কর্মসূচি। ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকদের পক্ষ থেকে প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে গিয়ে ছাগলগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
এলাকার একাধিক গ্রামে প্রশাসনের আধিকারিক ও কর্মীরা পৌঁছে ছাগল পালকদের সঙ্গে কথা বলছেন। পিপিআর রোগের লক্ষণ, সংক্রমণের সম্ভাবনা এবং ছাগলের যত্ন সম্পর্কে তাঁদের সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট বয়স ও নিয়ম অনুযায়ী ছাগলগুলিকে প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগে খুশি ছাগল পালনকারী মহিলারাও। তাঁদের বক্তব্য, গ্রামে পশু চিকিৎসা পরিষেবা সবসময় সহজে পাওয়া যায় না। ফলে ছাগল অসুস্থ হলে অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ির কাছে এসে টিকাকরণ করা হলে একদিকে যেমন ছাগলকে রোগের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখা যাবে, তেমনই পরিবারের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও কমবে।
প্রশাসনের আধিকারিকদের মতে, পিপিআর অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় সময়মতো প্রতিষেধক দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে ছাগল পালনকে আরও সুরক্ষিত ও লাভজনক করে তুলতেই এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পৌঁছনোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রত্যন্ত সুন্দরবনের গ্রামগুলিতে মহিলাদের স্বনির্ভরতার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে ছাগল পালন। সেই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি নিয়মিত সচেতনতা এবং টিকাকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার উপর জোর দিচ্ছে প্রশাসন।