Last Updated:
IIT Kharagpur: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে ত্রুটিমুক্ত স্মার্ট উৎপাদনের নতুন দিশা দেখাচ্ছেন অধ্যাপক সুরজ্য কে পাল। ভারত সরকারের ‘এএনআরএফ’-এর তরফ থেকে ‘জে সি বোস গ্র্যান্ট’ অর্জন করে আইআইটি খড়গপুর তথা দেশকে গর্বিত করলেন তিনি।
খড়গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: বিজ্ঞানের গবেষণায় অনন্য স্বীকৃতি পেলেন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) খড়গপুরের ডিন (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) অধ্যাপক সুরজ্য কে পাল। ভারত সরকারের ‘অনুসন্ধান ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ (এএনআরএফ)-এর তরফে তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ ‘জে সি বোস গ্র্যান্ট’-এ সম্মানিত করা হয়েছে। দেশের প্রবীণ ও সক্রিয় বিজ্ঞানীদের জন্য এটি অন্যতম সর্বোচ্চ এক সম্মান। যাঁরা নিরলস গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অসামান্য অবদান রাখেন, তাঁদেরই এই বিশেষ অনুদান দেওয়া হয়। অত্যাধুনিক গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এই আর্থিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মূলত ‘অ্যাডভান্সড অ্যান্ড স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং’ বা উন্নততর উৎপাদন শিল্পের গবেষণায় অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে চলেছেন অধ্যাপক পাল। তাঁর সাম্প্রতিক গবেষণার লক্ষ্য হল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) কাজে লাগিয়ে রিয়েল-টাইম ওয়েল্ডিংয়ের গুণমান নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সর্বজনীন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। এই গবেষণার মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে ‘জ়িরো-ডিফেক্ট’ বা ত্রুটিমুক্ত স্মার্ট উৎপাদন সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতের বুদ্ধিমান উৎপাদন ব্যবস্থাকে এক নতুন দিশা দেখাবে। আগামী পাঁচ বছর ধরে তিনি এই অত্যাধুনিক গবেষণার জন্য অনুদান পাবেন।
আইআইটি খড়গপুরের সেন্টার অফ এক্সিলেন্স ইন অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং টেকনোলজি-র প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি অধ্যাপক সুরজ্য কে পাল তাঁর সুদীর্ঘ কর্মজীবনে ৩০ জনেরও বেশি গবেষককে পিএইচডি-তে পথপ্রদর্শন করেছেন। আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁর ২৩০টির বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। গুগল স্কলারে তাঁর গবেষণার উদ্ধৃতি বা সাইটেশন ১২ হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে, যা তাঁর বিশ্বব্যাপী প্রভাবের প্রমাণ। গবেষণায় এই অভাবনীয় সাফল্যের জন্যই তাঁকে ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং (FNAE) এবং ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস, ইন্ডিয়া (NASI)-র ফেলো নির্বাচিত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি অধ্যাপক এন কে রায় চেয়ার প্রফেসর পদে রয়েছেন। ২০২৬ সালের ‘রিসার্চ ডট কম’-এর র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, মেকানিক্যাল ও অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে দেশের বিজ্ঞানীদের মধ্যে তিনি প্রথম সারিতে (দশম স্থানে) রয়েছেন।
Paschim Medinipur,West Bengal
