Last Updated:
PM Modi Is Not Asking You Not To Spend, But Spend Wisely | এক বছর দেশবাসীকে সোনা কেনায় লাগাম পরাতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাঁচাতে বলেছেন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার (ফরেক্স)। কিন্তু কেন এই পদক্ষেপের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী? বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত মহল বলছে, বিদেশ থেকে সোনা আমদানি করতে যে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয় কেন্দ্রীয় সরকারের, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাতেই রাশ টানতে চাওয়া হচ্ছে।
নয়াদিল্লি: কয়েক সপ্তাহ ধরে সরকারের অন্দরমহলে একটা নীরব আলোচনা চলছে। এই ধরনের আলোচনা সাধারণত বন্ধ দরজার পিছনে রিভিউ মিটিং, ইকনমিক ব্রিফিং আর স্ট্র্যাটেজিক আলোচনায় হয়ে থাকে ৷ যেখানে আধিকারিকরা শুধু ভারতের ‘গ্রোথ স্টোরি’ দেখেন না, বরং কী কী বিষয় সেই বৃদ্ধির গতি কমিয়ে দিতে পারে, সেটাও পর্যালোচনা করে দেখেন।
এইসব আলোচনার মাঝে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি আর্জি দেশবাসীর কাছে রেখেছেন — যেটা অনেকেই প্রথমে ভুল বুঝেছিলেন। যখন প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর এড়াতে বলেন, যখন তিনি মানুষকে জ্বালানি বাঁচাতে বলেন, যখন তিনি দেশবাসীকে সোনা কেনার আগে দু’বার ভাবতে বলেন বা যখন তিনি ভারতীয়দের দেশের বাইরে না গিয়ে দেশের ভিতরে ছুটি কাটাতে বলেন—আসলে এটা কোনও অর্থনৈতিক সঙ্কটের গোপন সঙ্কেত নয়।
সরকার খরচ কমাচ্ছে না। ভর্তুকি কমানোর কোনও পরিকল্পনা নেই। কল্যাণমূলক খরচ কমানো হচ্ছে না। ‘Capital expenditure’ — অর্থাৎ বড় খরচ যেমন হাইওয়ে, রেল, এয়ারপোর্ট, ডিফেন্স পরিকাঠামো আর পাবলিক প্রজেক্ট — এগুলো মোদি সরকারের অর্থনৈতিক কৌশলের অন্যতম স্তম্ভ। সরকারি সূত্রই বলছেন, পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ঐতিহাসিকভাবে অনেক বেশি এখন কারণ কেন্দ্র বিশ্বাস করে পরিকাঠামোয় খরচে চাকরি তৈরি হয়, চাহিদা বাড়ে আর অর্থনৈতিক চক্র চলতে থাকে।
এটা রিসেশনের জন্য নাগরিকদের প্রস্তুত করার সরকার নয়। বরং ছন্দ বজায় রাখার চেষ্টা করছে সরকার। এই পার্থক্যটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে তেলের দাম বেড়েছে। বেড়েছে আমদানির খরচও। আমদানি-রফতানি ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সোনা আমদানির খরচও বেড়েছে। তার ফলে চাপ পড়ছে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডারে। এই আবহে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আপাতত এক বছর সোনা কিনতে বারণ করেছেন।
ভারত আজকের দিনে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক বিরল অবস্থান দখল করেছে। যখন অনেক বড় অর্থনীতি স্থবিরতা, দুর্বল খরচ বা ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করছে, তখন ভারত নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত-বর্ধনশীল বড় অর্থনীতি হিসেবে তুলে ধরছে। সরকারি মহলে এই ইমেজ এবং এর সঙ্গে আসা অর্থনৈতিক আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার ব্যাপারে অনেক সংবেদনশীলতা রয়েছে।
যেটা নীতিনির্ধারকদের চিন্তিত করছে, সেটা দেশীয় খরচ নয়। আসলে, সরকার চায় ভারতীয়রা খরচ করুক। খরচ বৃদ্ধিকে চালায়। বাজারের জন্য ক্রেতা দরকার। কারখানার জন্য চাহিদা দরকার। সার্ভিসের জন্য গ্রাহক দরকার। তবে এই গল্পের আরেকটা দিকও আছে। ভারত এখনও তার সবচেয়ে বড় কিছু চাহিদার জন্য আমদানির উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ক্রুড অয়েল এখনও সবচেয়ে স্পষ্ট দুর্বলতা। সোনা আমদানি প্রতি উৎসবের মরশুম আর বিয়ের সময়ে অর্থনীতির উপর চাপ বাড়িয়ে দেয়। বিদেশে ছুটি কাটাতে গেলে মূল্যবান বিদেশি মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যায়। প্রতিটা আমদানিকৃত জ্বালানি, সোনার চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং বিদেশে খরচ বেড়ে গেলে- সবকিছুই ভারতের Current Account Deficit-এর উপর চাপ বাড়ায়।
Kolkata,West Bengal
