এদিকে, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউটের ভূকম্পন নেটওয়ার্কের তথ্য বলছে, ইরানজুড়ে ৩ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত এক সপ্তাহে ৮৩টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে তিনের কম মাত্রার ৭১টি, তিন থেকে চার মাত্রার ১০টি এবং চার থেকে পাঁচ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, গোপনে পরমাণু কেন্দ্রে পরীক্ষা চালানোর জন্য এই ভূকম্পন অনুভূত হয়ে থাকতে পারে। কারণ খুজেস্তানে রয়েছে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র। অন্যদিকে, পরমাণু কেন্দ্র না থাকলেও সামরিক তৎপরতার কেন্দ্রবিন্দু খোরাসান। এর আগে ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত এক বছরে সেখানে ২ হাজার ৩৮০টি কম্পন অনুভূত হয়।
বিশ্বের অত্যন্ত ভূকম্পন-সক্রিয় অঞ্চলে অবস্থিত পারস্য মালভূমি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ২ শতাংশ সংঘটিত হয় ইরানে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং সমঝোতা স্মারকে (MoU) স্বাক্ষরের পরও দুই দেশের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকএক্স মাউন্টেন’-এ বোমাবর্ষণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্পের দাবি, তিনি কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেবেন না। সেই কারণেই তিনি ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলির একটিতে হামলার হুমকি দিয়েছেন।
পিকএক্স মাউন্টেন ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনা থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞদের মতে ভূগর্ভের অনেক গভীরে নির্মিত এই পারমাণবিক কমপ্লেক্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী বাঙ্কার-বাস্টার বোমার নাগালেরও বাইরে থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, শুধুমাত্র আকাশপথে হামলা চালিয়ে এমন স্থাপনাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা সহজ নয়। কারণ, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য ছাড়া হামলার প্রকৃত কার্যকারিতা মূল্যায়ন করাও কঠিন। ২০২৫ সালে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে মার্কিন হামলার পর পেন্টাগনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ওই হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্ভবত এক থেকে দুই বছর পিছিয়ে গিয়েছিল।