Last Updated:
ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আসন্ন চুক্তিতে হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার বিষয়টিরও উল্লেখ থাকবে। তাঁর কথায়, ‘‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে ইরানের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পুরোপুরি প্রস্তুত আমেরিকা। তবে ইরান এবং পশ্চিম এশিয়ার অন্য দেশগুলি যে কোনও ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকতে আমাদের অনুরোধ করেছে।’’
ওয়াশিংটন: ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলা সংঘাত নিয়ে আমেরিকার স্পষ্ট কৌশলের অভাব দেখে উপসাগরীয় দেশগুলি ক্রমশই অসন্তুষ্ট হয়ে উঠছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের ফলে গাল্ফ দেশগুলি বারবার ইরানের হামলার ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
ইরান এবং পশ্চিম এশিয়ায় তার মিত্র দেশগুলির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রেখেছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কেন তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সঙ্গে বিরোধে জড়িত দেশগুলি যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে চুক্তি করতে আগ্রহী। শুধু তা-ই নয়, ট্রাম্পের দাবি, চুক্তিতে আমেরিকার শর্তও মানবে বলে জানিয়েছে তারা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে গাল্ফের মিত্র দেশগুলি আমেরিকার কাছে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। পাশাপাশি, সংঘাত অব্যাহত থাকলে মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের সুরক্ষা দিয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তাও তারা চেয়েছে।
ট্রাম্প পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করলেন:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন। তবে পরে তিনি সেই হামলা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব নিয়ে মধ্যস্থতাকারীরা অগ্রগতি করায় এবং একাধিক উপসাগরীয় দেশ তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানোয় ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নেন।
মধ্যপ্রাচ্যের সময় অনুযায়ী রবিবার ভোরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের ঘোষণার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা সাময়িকভাবে কিছুটা কমে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত তাঁর পরিচিত কৌশলেরই প্রতিফলন, যেখানে তিনি একদিকে কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারি দেন, অন্যদিকে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদও প্রকাশ করেন।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত:
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আরও একটি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে ইরানের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পেশ করেন। জানা গিয়েছে, ইরানের কূটনীতিকরা সেই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন, ফলে সম্ভাব্য সমঝোতার আশা জোরালো হয়েছে।
একজন ইরানি কূটনীতিক নিশ্চিত করেছেন যে, তেহরান ওই প্রস্তাবের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ইরান প্রস্তাবটি গ্রহণ করবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
Kolkata,West Bengal
