Last Updated:
যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের উপরে সাদা পোশাকের পুলিশ নির্মম লাঠিচার্জ, গ্রেফতার করছে এমন বহু ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে৷ ওই পুলিশকর্মীদের পরিচয় নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা৷
দিল্লির যন্তরমন্তরে ছাত্রদের বিক্ষোভ চলাকালীন সাদা পোশাকে থাকা পুলিশকর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে৷ বিক্ষোভ দমনে সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীদের ব্যবহার নিয়ে এই বিতর্ক অবশ্য ভারতে নতুন কিছু নয়৷ বিক্ষোভ দমনে সাদা পোশাকে থাকা পুলিশকর্মীদের পরিচয় নিয়েই অতীতে বিভিন্ন ঘটনায় বিক্ষোভকারীরা প্রশ্ন তুলেছে৷ যেমন হয়েছে দিল্লির যন্তরমন্তরে৷ সাদা পোশাকে অথবা উর্দিতে নেমপ্লেট না থাকা পুলিশকর্মীরা আসলে কারা, তা নিয়ে ভাইরাল হয়েছে বহু রিলস এবং ভিডিও৷
পুলিশকর্মীদের কর্তব্যরত অবস্থায় সবসময় উর্দি পরেই থাকতে হবে, এমন কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা নেই৷ তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি, পুলিশের পরিচয় গোপন রেখে কাজ করা, অ্যান্টি- ক্রাইম অপারেশন, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং ভিআইপি-দের নিরাপত্তা দেওয়ার মতো বিভিন্ন কারণে দেশের সব থানাই সাদা পোশাকে থাকা পুলিশকর্মীদের ব্যবহার করে৷
সাদা পোশাকে পুলিশকর্মীদের কাজ করা নতুন কিছু নয়৷ বিশেষত যে ধরনের অভিযান অথবা তদন্তের ক্ষেত্রে অফিসারের পরিচয় প্রকাশ্যে চলে এলে সমস্যা হতে পারে, সেই সমস্ত ক্ষেত্রে পুলিশ অফিসাররা সাদা পোশাকেই ডিউটি করেন৷
হ্যাঁ, অবশ্যই পারেন৷ তবে এই ধরনের গ্রেফতারির ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে৷ সাদা পোশাকে আছেন বলেই একজন পুলিশকর্মীর আইনি ক্ষমতা থাকবে না, তা কখনওই নয়৷ আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একজন সাদা পোশাকে থাকা পুলিশকর্মী কোনও অভিযুক্তকে আটক, গ্রেফতার করতে পারেন, প্রয়োজনে অভিযুক্তের উপরে যুক্তিগ্রাহ্য বলপ্রয়োগও করতে পারেন এবং জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন৷ তবে সবক্ষেত্রেই একজন উর্দিধারী পুলিশকর্মীকে আইনের যে যে বিধিনিষেধ মানতে হয়, সাদা পোশাকে থাকা পুলিশকর্মীকেও সেই সমস্ত শর্ত মানতে হবে৷
সাদা পোশাকে থাকলেই একজন পুলিশকর্মীকে যে সবসময় নিজের পরিচয়পত্র অথবা নাম লেখা ব্যাজ দেখাতে হবে, এমন কথা আইনে কোথাও বলা নেই৷ তবে ভারতীয় আইন এবং সু্প্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সাদা পোশাকে থাকা অবস্থায় কাউকে গ্রেফতার করতে গেলে অথবা আইন প্রয়োগ করার জন্য বলপ্রোয়োগ করলে সংশ্লিষ্ঠ পুলিশকর্মীকে অবশ্যই নিজের পরিচয় জানাতে হবে৷ ভারতীয় ন্যায় সংহিতাতেও সেকথাই বলা আছে৷
পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন হেনস্থা এবং নির্যাতনের ঘটনা আটকাতে ১৯৯৭ সালে ডি কে বসু বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া ঐতিহাসিক নির্দেশকেই গ্রেফতারির ক্ষেত্রে মেনে চলা হয়৷ ওই নির্দেশে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট বলে দিয়েছিল, কাউকে গ্রেফতারের সময় একজন পুলিশ অফিসারকে স্পষ্ট ভাবে নিজের পরিচিতি জানাতে হবে৷ গ্রেফতারির নথিতে ওই পুলিশ অফিসারের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও নথিবদ্ধ করতে হবে৷ অ্যারেস্ট মেমো তৈরির করার পাশাপাশি ধৃতের পরিবার অথবা পরিচিতদের খবর দিতে হবে৷ এ ছাড়াও মেডিক্যাল পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় নথি তৈরি করতে হবে৷ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বলে দেওয়া এই প্রক্রিয়াকেই গ্রেফতারির সময় এ দেশে পুলিশি ব্যবস্থায় মেনে চলা হয়৷
একজন পুলিশ অফিসার যখনই নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করে গ্রেফতার অথবা আইন প্রণয়নে কোনও পদক্ষেপ করবেন, তখন সাদা পোশাকে থাকলেও তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে বাধ্য৷ হয় তিনি যে পুলিশকর্মী হিসেবে কর্তব্যরত আছেন, তা কোনওভাবে দৃশ্যমান হতে হবে, তা না হলে প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁকে নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে৷ বিভিন্ন মামলায় আদালত বার বারই বলেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতে স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতাই একমাত্র রক্ষাকবচ৷
Kolkata,West Bengal
