গতকাল, সোমবার ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-এর নেতৃত্বে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সংসদের উদ্দেশে ‘চলো সংসদ’ মিছিলের ডাক দেয়। সেই মিছিলকে ঘিরে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে। এতে পুলিশ ও আন্দোলনকারী—উভয় পক্ষেরই বহু মানুষ আহত হন এবং মধ্য দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক যানজট ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে নিজের বাসভবনে সিজেপি-র জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এবং প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাসের সঙ্গে বৈঠক করেন জেপি নাড্ডা। পরে এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠক ‘মঙ্গল মিলন’-এ যোগ দিতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নাড্ডা সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “বৈঠক ভাল হয়েছে, সব সময়ই ভাল হয়।”
সিজেপি-র দাবি, বৈঠকে তারা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সামনে তিনটি মূল দাবি তুলে ধরেছে—
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করা NEET পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অবিলম্বে মুক্তি।
দলটির দাবি, এই দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ আশুতোষ রাঙ্কা জানান, বৈঠকে তাঁরা ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করানো বা মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, নাড্ডা আশ্বাস দিয়েছেন যে বিষয়টি তিনি ‘উপযুক্ত স্তরে’ আলোচনা করবেন। তবে এ বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, এক্স-এ নিজের পোস্টে জেপি নাড্ডা জানান, আলোচনার প্রস্তাব বিক্ষোভকারীদের তরফ থেকেই এসেছিল এবং বৈঠক ছিল ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ’। তিনি আরও জানান, বিস্তারিত মৌখিক আলোচনার পর বিকেল প্রায় ৪টায় প্রতিনিধিদল একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দেয়।
তবে সিজেপি-র দাবি, আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছিল কেন্দ্র সরকারই। তাদের বক্তব্য, নাড্ডা সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য সময় চেয়েছেন। সেই আলোচনায় সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণের দাবিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সোমবারের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে মধ্য দিল্লিতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়া বিক্ষোভকারীদের আটকাতে দিল্লি পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
বিক্ষোভে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, প্রবীণ নাগরিকসহ বহু মানুষ অংশ নেন। তাঁদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড এবং প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে স্লোগান।
দিল্লি পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে ১১৮ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী, যার মধ্যে একাধিক শীর্ষ আধিকারিকও ছিলেন, আহত হয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারীও আহত হন।
পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা পাথর ছুড়েছেন, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেছেন এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করেছেন।
অন্যদিকে, সিজেপি অভিযোগ করেছে যে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
এদিকে, এই ইস্যু সংসদেও পৌঁছেছে। বিরোধী দলগুলি বিষয়টি নিয়ে সরব হওয়ায় উভয় কক্ষেই বারবার অধিবেশন ব্যাহত হয়।