কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যে দলের মধ্যে যারা চুরি করেছে এবং বেআইনি উপায়ে সম্পত্তি করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন, তিনি সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। তাঁর কথায়, “তৃণমূলের যারা মাল তুলেছে, তাদের গ্রেফতার করা হোক। এতে আমার পূর্ণ সমর্থন আছে।”
নাম না করে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকেও আক্রমণ করেন কল্যাণ। তিনি বলেন, “শুধু কালিকে ধরলে হবে না, কলম-দোয়াতকেও ধরতে হবে।” একইসঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বাতী খন্দকার, মিতালী বাগ, স্নেহাশিস চক্রবর্তী-সহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন তিনি।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে কল্যাণ বলেন, “সব চোর একজোট হয়ে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল তৈরি করেছে। এরা প্রচুর মাল কামিয়েছে। বিজেপি এখন নেবে না বলেই নিজেদের আলাদা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।”
রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে কল্যাণের মন্তব্য, “তিনি এখন বলছেন হুগলির ডেভেলপমেন্টের জন্য তিনি তৃণমূল বি টিমে গিয়েছেন। হুগলির মানচিত্র কোথা থেকে কতটা সেটাই তিনি জানেন না। তিনি বলেছেন শুধু দল নয় তার ফেস ভ্যালুর জন্য তিনি জিতেছেন। তিনি দিদি নাম্বার ওয়ান করতেন বলে মানুষ একটু তার প্রতি উৎসাহী ছিল। এখন সেই দিদি নাম্বার ওয়ান ও তাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এখন তিনি বলছেন তাঁর সঙ্গে ঠিক করা হয়নি এটা। তিনিও দলের সঙ্গে ঠিক করেননি সেটা এবার বুঝতে শিখুক।”
আরামবাগের সাংসদ মিতালী বাগকে নিয়েও কটাক্ষ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, একসময় তিনিই মিতালী বাগের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। অথচ বর্তমানে তিনিও বিরোধী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। কল্যাণের দাবি, বর্তমানে মিতালী বাগের পাশেও কোনও কর্মী নেই।
সভার শেষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, আগামী দিনে তিনি রাজ্যের প্রতিটি জেলায় সফর করবেন। তাঁর কথায়, “তৃণমূলের প্রকৃত শক্তি দলের কর্মীরা। কর্মীরাই প্রকৃত নেতা তৈরি করেন। আগামী দিনে কর্মীরাই ঠিক করবেন, কে তাঁদের নেতা।”
এছাড়াও চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকার যেন অভিযুক্তদের গ্রেফতারের প্রতিশ্রুতি ভুলে না যায়। অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সরকারকে ব্যর্থ বলেই মনে করবেন বলে মন্তব্য করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।