Last Updated:
Popular Actor Death: বিনোদন জগতে ফের দুঃসংবাদ৷ প্রবীণ তামিল অভিনেতা চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার কে ভাগ্যরাজ শনিবার চেন্নাইতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তাঁর মৃত্যু তামিল সিনেমার জন্য একটি যুগের অবসান ঘটল। ভাগ্যরাজকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষ বিদায় জানানো হয়।
চেন্নাই: প্রবীণ তামিল চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা ও লেখক কে ভাগ্যরাজ শনিবার চেন্নাইতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। আজ,রবিবার অভিনেতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে৷ প্রবীণ চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার কে ভাগ্যরাজকে চেন্নাইয়ের বেসান্ত নগর শ্মশানে সমাহিত করা হয়েছে। ভাগ্যরাজকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষ বিদায় জানানো হয়।
চলচ্চিত্র নির্মাতা-অভিনেতা কে ভাগ্যরাজের শবযাত্রা চেন্নাইয়ের রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় উপচে পড়ে রাস্তায়। শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হন অভিনেতার অনুরাগীকা৷ চলচ্চিত্র নির্মাতাকে আবেগঘন বিদায় জানানোর সময় চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি সহকর্মী থেকে অনুরাগী-সহ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ব্যক্তিত্বরা৷ সকলেই তাঁকে মন থেকে স্মরণ করেছেন৷ তাঁর মৃত্যুতে বিনোদন জগতে বিরাট ক্ষতি৷
ভাগ্যরাজ তার স্ত্রী, অভিনেতা পূর্ণিমা ভাগ্যরাজ এবং তাদের সন্তান, অভিনেতা শান্তনু ভাগ্যরাজ এবং কন্যা সারনিয়া ভাগ্যরাজকে রেখে না ফেরার দেশে চলে গেলেন। কিংবদন্তী চলচ্চিত্রকার ব্যক্তিগত জীবনে ভীষণ অ্যাক্টিভ ছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর মাত্র কিছুদিন আগে গোয়ায় অভিনেত্রী-রাজনীতিবিদ খুশবু সুন্দরের মেয়ের বিয়েতে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷
তামিলনাড়ুর ইরোড জেলায় কৃষ্ণস্বামী ভাগ্যরাজ জন্মগ্রহণ করেন, তিনি খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা ভারতীরাজার সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে তাঁর যাত্রা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে নিজের একটি সফল কর্মজীবন গড়ে তোলেন। তিনি তামিল সিনেমার অন্যতম প্রভাবশালী চলচ্চিত্র নির্মাতা-লেখক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন, যিনি তাঁর মধ্যবিত্ত পারিবারিক নাটকের স্বতন্ত্র শৈলী, তীক্ষ্ণ চিত্রনাট্য রচনা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটনির্ভর গল্প বলার জন্য পরিচিত, যা ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে তামিল সিনেমার একটি যুগকে সংজ্ঞায়িত করেছিল।
তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে ভাগ্যরাজ ২৫টিরও বেশি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন এবং ৭৫টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি তামিল সিনেমার অন্যতম সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবেও বিবেচিত হতেন তিনি এবং তাঁর সৃষ্টিকর্ম বাস্তবসম্মত চরিত্র, আবেগঘন গভীরতা ও আকর্ষণীয় আখ্যানের জন্য ব্যাপক প্রশংসা লাভ করেছিল। তাঁর সবচেয়ে প্রশংসিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে মুন্ধানাই মুদিচু, অন্ধা ৭ নাটকাল এবং ডার্লিং, ডার্লিং, ডার্লিং, যেগুলোর সবগুলোই আজও ক্লাসিক হিসেবে স্মরণীয়। তামিল চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান এতটাই তাৎপর্যপূর্ণ ছিল যে, তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও কিংবদন্তি অভিনেতা এম জি রামচন্দ্রন (এমজিআর) প্রকাশ্যে ভাগ্যরাজকে চলচ্চিত্র জগতে তাঁর উত্তরাধিকারী হিসেবে বরণ করে নিয়েছিলেন।
ভাগ্যরাজ ১৯৮৬ সালে ‘আখরি রাস্তা ‘ পরিচালনা করে হিন্দি সিনেমায়ও নিজের ছাপ রাখেন। এই ছবিতে অমিতাভ বচ্চন দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেন এবং তাঁর সঙ্গে জয়া প্রদা, শ্রীদেবী ও অনুপম খেরও ছিলেন। প্রতিশোধের এই গল্পটি সেই দশকের অন্যতম উল্লেখযোগ্য হিন্দি চলচ্চিত্র হয়ে ওঠে এবং তামিল সিনেমার বাইরেও ভাগ্যরাজের গল্প বলার দক্ষতাকে আরও একবার তুলে ধরে। তামিল চলচ্চিত্র জগৎ তার অন্যতম প্রখ্যাত সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে শোকাহত। এমন একজন নির্মাতাকে স্মরণ করবেন যাঁর কাজ প্রজন্মের পর প্রজন্ম দর্শকের মনে এক স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে।
Kolkata,West Bengal
