Last Updated:
হত্যাটি যে পূর্বপরিকল্পিত ছিল, তা প্রমাণ করতে তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখন মোবাইল ডেটা, কল রেকর্ড, ইন্টারনেট সার্চ হিস্ট্রি এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রমাণ খতিয়ে দেখছে।
পুনে: ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে৷ একটি নতুন ভিডিও সামনে এসেছে যেখানে তাঁকে একটি নাইটক্লাবে পার্টি করতে ও মদ্যপান করতে দেখা গিয়েছে। ভিডিওটিতে সিয়া গোয়ালকে একটি পাবের ভিতরে ফোনে কথা বলতে দেখা যায়৷ তার হাতে একটি বোতল বলে রয়েছে বলে হচ্ছে। ক্লিপটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল৷ তবে এর সত্যতা যাচাই করেনি নিউজ ১৮ বাংলা। ভাইরাল সেই ভিডিও-তে দেখা গিয়েছে, একটি পাবের ভিতরে পাশাপাশি বসে রয়েছেন সিয়া এবং চেতন। একে অপরকে জড়িয়ে ধরার ভঙ্গিও চোখে পড়ে। ক্লিপটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় তদন্তকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
A new video of Siya Goyal has surfaced in the Ketan Agrawal murder investigation, showing her partying and consuming alcohol at a pub. pic.twitter.com/M2CNTKyDtd
— NextMinute News (@nextminutenews7) July 1, 2026
তদন্তকারীরা বলছেন, কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলাটি বর্তমানে পুরোপুরি পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল। বেশ কয়েকদিন তদন্তের পরেও পুলিশ এমন কোনো সরাসরি সূত্র খুঁজে পায়নি, যা দিয়ে কেতনের হত্যাকাণ্ডের অপরাধীদের স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়। তাই, অভিযুক্তরাই যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রমাণ করার জন্য পুলিশ ছোট-বড় সব ধরনের প্রমাণ একত্রিত করছে।
সোনম রঘুবংশী মামলা-
পুনে গ্রামীণ পুলিশ এই মামলায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করছে। পুলিশ চায় না যে সোনম রঘুবংশী মামলার মতো কোনোও আইনি বা পদ্ধতিগত ত্রুটি ঘটুক, যা অভিযুক্তকে সুবিধা পাইয়ে দিতে পারে।
নজরে ডিজিটাল তথ্য-
জিজ্ঞাসাবাদের সময় সিয়া অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন কোনো সূত্র প্রকাশ করতে পারে যা তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং সন্দেহভাজনকে খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। পুলিশ দেখতে চায় যে সে আগে কখনও গুগলে লোহাগড় দুর্গের উচ্চতা অনুসন্ধান করেছিল কিনা, অথবা তার ফোনে এমন কোনো ডিজিটাল কার্যকলাপ করেছিল কিনা, যা সম্পর্কে পুলিশ বর্তমানে অবগত নয়। এরপর পুলিশ আইনত ব্রাউজার হিস্ট্রি, লোকেশন ডেটা বা মুছে ফেলা সার্চের মতো ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারবে। এই ধরনের ডিজিটাল প্রমাণ আদালতে গ্রহণযোগ্যও হতে পারে।
মিলছে না সিসিটিভি ফুটেজ
এই মুহূর্তে পুলিশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, এই হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই। সিয়া ও চেতনকে কেতনকে পাহাড়ের চূড়া থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে কেউ দেখেনি। উপরন্তু, ঘটনাটির কোনো সিসিটিভি ফুটেজও নেই, যা মামলাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাস্থলের কাছে শুধু সহ-অভিযুক্ত চেতন চৌধুরীকে হুডি পরা অবস্থায় দেখা যায়। কিন্তু শুধু এটিই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে না।
ঘটনার পুনর্নির্মাণ-
ঘটনাটি বোঝার জন্য পুলিশ একটি ডামি ব্যবহার করে ঘটনাস্থলটি পুনর্নির্মাণ করেছিল৷ তবে
এর আইনি গুরুত্ব খুব কম। ডামিটির পতন তার ওজন, কোণ এবং গতির উপর নির্ভর করে। এর মাধ্যমে প্রমাণ করা যায় না যে ব্যক্তিটিকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল, নাকি তিনি নিজে থেকেই পিছলে পড়েছিলেন। তাই, রাষ্ট্রপক্ষ এখন হত্যার উদ্দেশ্য এবং ডিজিটাল প্রমাণের ওপর বেশি নির্ভর করছে।
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
