Last Updated:
গত কয়েকদিন ধরেই প্রবল বৃষ্টিতে মুম্বইয়ের জনজীবন বিপর্যস্ত৷ দুর্যোপূর্ণ আবহাওয়ায় যে কোনও মুহূর্তে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকলেও কেন বিপজ্জনক ওই গাছটি আগে থেকে কাটা হল না, সেই প্রশ্নও উঠছে৷
আর পাঁচটা দিনের মতোই সকালবেলা স্কুলে গিয়েছিল ১১ বছরের ভিহান শ্রীবাস্তব৷ হাসিখুশি, প্রাণোচ্ছল, বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান যে আর বাড়ি ফিরবে না, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি কেউ৷ মঙ্গলবার মুম্বইয়ের চেম্বুর এলাকায় ভিহানদের স্কুলবাসের উপরে একটি বিশাল অশ্বত্থ গাছ উল্টে পড়ে৷ এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় ভিহান৷ বাসের থাকা বাকি পড়ুয়ারা প্রাণে বাঁচলেও মৃত্যু হয় ভিহানের৷ ১১ বছর বয়সি স্কুলছাত্রের এমন মর্মান্তিক পরিণতির জন্য পুরসভা এবং প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে৷
ভিহানের অপ্রত্যাশিত এই পরিণতিতে তাঁর পরিবার তো বটেই, পাড়া প্রতিবেশীরাও হতবাক৷ বুধবার মুম্বইয়ে ভিহানের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়৷ অসহনীয় এই শোকের মধ্যেও ভিহানের পরিবারের সদস্য এবং পরিচিতরা এই ঘটনার জন্য যাঁরা দায়ী, তাঁদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন৷
বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ভিহানের এ ভাবে চলে যাওয়ায় স্বভাবতই বিধ্বস্ত গোটা পরিবার৷ ভিহানের দাদু এস এন শ্রীবাস্তব এনডিটিভি-কে বলেন, এটা পুরোপুরি গাফিলতির ফল৷ ওই অশ্বত্থ গাছটি অনেক দিন ধরেই বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল৷ স্থানীয় বাসিন্দারা আগেই ওই গাছটি কেটে ফেলার জন্য দাবি জানিয়েছিলেন৷ তার পরেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হল না?
বিহানের দাদু বলেন, আমার নাতি আর ফিরে আসবে না৷ কিন্তু যারা ওর এই পরিণতির জন্য দায়ী, তাদের শাস্তি হওয়া দরকার৷ যাতে আর কোনও শিশুর জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা না হয়৷ এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশে অভিযোগ দায়েরের কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভিহানের দাদু৷ ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি৷
হাসিখুশি ভিহান যে আর নেই, তা মেনে নিতেই পারছেন না তার পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীরা৷ প্রত্যেকেই জানাচ্ছেন, ভিহান যেখানেই যেত, সবাইকে মাতিয়ে রাখত৷ আজ সেই ছোট্ট ছেলেটির জন্যই সবাইকে চোখের জল ফেলতে হচ্ছে৷ ক্রিকেট খেলতেও দারুণ ভালবাসত সে৷
ভিহানের পরিবারের এক সদস্য বলেন, ও আমাদের জীবন আলো করে রেখেছিল৷ খুব বুদ্ধিমান ছিল ভিহান, ক্রিকেট খেলতেও খুব ভালবাসত৷ তাই ভিহানকে সমাহিত করার সময় ওর প্রিয় ক্রিকেট বলটাও আমরা সঙ্গে দিয়ে দিয়েছি৷
এই ঘটনায় বৃহন্মুম্বই পুর নিগমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে৷ প্রশ্ন উঠেছে এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নিয়েও৷ স্থানীয় এক বাসিন্দাও দাবি করেছেন, অনেক দিন আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা ওই গাছটি কাটার অনুরোধ করেছিলেন৷ কিন্তু কাজের কাজ হয়নি৷ স্থানীয় বিধায়ক টুকারাম কাটে এবং সাংসদ অনিল দেশাইও পুরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন৷
Kolkata,West Bengal
