Last Updated:
Khudiram Bose Hidden Facts: দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের কনিষ্ঠতম শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর আসল জন্মস্থান কোথায়? কেশপুরের মোহবনী নাকি মেদিনীপুর শহরের হাবিবপুর? ব্রিটিশের ঘুম উড়ানো এই বীর বিপ্লবীর নামকরণ থেকে শুরু করে জন্মভিটের ইতিহাস, তাঁর অসীম বীরত্বের গল্প এখনও শিহরণ জাগাবে।
মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: খেলার বয়সেই তাঁর হাতে উঠেছিল দেশের স্বাধীনতার মশাল। যে বয়সে বই আর খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসক কিংসফোর্ডকে হত্যার ছক কষেছিলেন তিনি। প্রথমে বই-বোমা এবং পরে বিহারের মুজফ্ফরপুরে গিয়ে সরাসরি বোমা ছুঁড়ে কিংসফোর্ডকে মারার দুঃসাহসিক পরিকল্পনা নেন তিনি। যদিও সেই আক্রমণ থেকে কিংসফোর্ড বেঁচে গিয়েছিলেন। দেশের তরে এই অসীম সাহসিকতার দাম চোকাতেও পিছপা হননি এই কিশোর। ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে মৃত্যুকে বরণ করে নেওয়া সেই সর্বকনিষ্ঠ বিপ্লবীর নাম ক্ষুদিরাম বসু। অবিভক্ত মেদিনীপুরের এই বীর সন্তান আজও সারা দেশের কাছে এক অনন্ত অনুপ্রেরণা।
১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন ক্ষুদিরাম। তাঁর বাবা ত্রৈলোক্যনাথ বসু ছিলেন নাড়াজোল রাজপরিবারের তহসিলদার এবং মায়ের নাম লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী। পিতা-মাতার চতুর্থ সন্তান ছিলেন তিনি। শোনা যায়, তাঁর জন্মের আগে দুই সন্তানের অকালমৃত্যু হয়েছিল। তাই এই নবজাতকের দীর্ঘায়ু কামনা করে এক অদ্ভুত প্রথার আশ্রয় নেয় পরিবার। দিদি অপরূপা দেবীর কাছে এক মুঠো ক্ষুদের বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয় তাঁকে। আর সেই থেকেই এই ছেলের নাম রাখা হয় ‘ক্ষুদিরাম’। ছোটবেলা থেকেই দেশের প্রতি অগাধ প্রেম আর স্বাধীনতার স্বপ্ন তাঁর মনে বাসা বেঁধেছিল।
ক্ষুদিরামের জন্মস্থান নিয়ে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও ইতিহাস গবেষকরা নির্দিষ্ট কিছু তথ্য তুলে ধরেন। অনেকের মতে কেশপুর ব্লকের মোহবনী এলাকায় তাঁর জন্ম। তবে গবেষকদের বড় অংশের দাবি, মেদিনীপুর শহরের হবিবপুরেই জন্ম হয়েছিল এই অগ্নিপুরুষের। হবিবপুরের একটি কালীমন্দিরের ঠিক উল্টোদিকেই তাঁর জন্মস্থান। কথিত আছে, ওই মন্দিরে ক্ষুদিরামের মা মানতও করেছিলেন। বর্তমানে হবিবপুরের সেই জন্মভিটেকেই সংরক্ষণ করেছে প্রশাসন, সেখানে স্থাপন করা হয়েছে শহিদের প্রতিকৃতি। তবে এ কথাও জানা যায় যে, তাঁর পূর্বপুরুষদের বাস ছিল কেশপুরের মোহবনীতেই এবং তাঁর উত্তরসূরিরা এখনও সেখানেই থাকেন।
জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ থাকলেও এ কথা নিশ্চিত যে, ক্ষুদিরামের বেড়ে ওঠা এবং বিদ্যালয় জীবন কেটেছে মেদিনীপুর শহরেই। পড়াশোনার প্রয়োজনে তিনি কয়েক বছর তমলুকে কাটিয়েছিলেন। তবে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মন্ত্রে তাঁর দীক্ষা হয়েছিল মেদিনীপুরের মাটিতেই। মাতৃভূমিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে নিজের প্রাণ বলিদান দেওয়ার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছিলেন, তা এককথায় বিরল। বয়স অত্যন্ত সামান্য হলেও তাঁর সাহসিকতা ছিল হিমালয়ের মত অটল। দেশের প্রতি এমন অকৃত্রিম এবং নিখাদ ভালবাসা আজও প্রতিটি ভারতবাসীর মনে শ্রদ্ধার আগুন জ্বালিয়ে রাখে।
Paschim Medinipur,West Bengal
Khudiram Bose Hidden Facts: হাবিবপুর নাকি কেশপুরের মোহবনী? বিপ্লবী ক্ষুদিরামের আসল বাড়ি কোথায়? স্পষ্ট করে দিলেন ইতিহাস গবেষকরা