Last Updated:
Murshidabad News: জলই এখন ইকবালের একমাত্র আশ্রয়! ডাঙায় পা রাখলেই শরীরজুড়ে শুরু হয় অমানুষিক জ্বালাপোড়া, তাই একটানা ৪-৫ দিন পুকুরেই নিজেকে ডুবিয়ে রাখছে বেলডাঙার ১৬ বছরের কিশোর। চিকিৎসা অমিল, স্থানীয়দের মুখে অশরীরীর কথা, এই রহস্যময় শারীরিক যন্ত্রণার কারণ নিয়ে বেলডাঙাজুড়ে তীব্র ধোঁয়াশা।
মুর্শিদাবাদ, কৌশিক অধিকারী: মুর্শিদাবাদের ইকবাল শেখ। এক দিন বা দু’দিন নয় টানা চারদিন থেকে পাঁচদিন জলে কাটিয়ে থাকে ইকবাল। ছোট্ট ইকবালের কাণ্ড এখন চক্ষু চড়কগাছ সকলের। কারণ তার জলই জীবন। জীববিদ্যার এই কথাটা চিরন্তন সত্য। তবে বেলডাঙার ইকবাল শেখের জলই জীবন নয়। বলা যায় জলেই জীবন। একবার জলে নামলে চারদিন, পাঁচদিন কোনও কোনও সময় সাতদিন একটানা জলেই কাটায়। মানুষের দেওয়া চিঁড়ে, বিস্কুট খেয়েই জলে ভেসে থাকে ইকবাল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বছর পাঁচেক ধরে বাড়ি ঘর ছেড়ে বেলডাঙা শহরের বিভিন্ন পুকুরে ভেসেই ইকবাল দিনরাত কাটায়। না কোনও শখ থেকে নয় বা গ্রিনিজ বুকে নাম তোলার জন্যও নয়। শরীরের জ্বালা মেটাতেই রাতদিন জলেই শরীর ডুবিয়ে রাখে ইকবাল। ইকবালের দাবি, তার উপর জিন, পরি বা কোনও অশরীরি আত্মার ভর রয়েছে। জল থেকে উঠলেই শরীরে জ্বালাতন শুরু হয়। জলে নামলেই স্বস্তি মেলে। টানা চারদিন, পাঁচদিন জলে থাকায় হাতের পায়ের এমনকি গোটা শরীরের চামড়া সাদা হয়ে গিয়েছে।
একটানা জলে পড়ে থাকায় সর্দি কাশিতে আক্রান্ত ইকবাল নিজের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়েও কোনও পাত্তা পায়নি। পরিবারের সে সামর্থও নেই যে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করায়। তবে স্থানীয় মানুষজন ইকবালের চিকিৎসার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। এখন রোজ ইকবালকে জলে ভাসে থাকতে দেখতে স্কুল পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষ মেলার মতো ভিড় জমান পুকুর পাড়ে। কেউ কেউ খাবার দিয়ে যাহায্য করেন। কিন্তু কেউ তাকে বাড়িতে আটকে রাখতে পারে না। এভাবে কতদিন বাঁচবে বছর ১৬ কিশোর ইকবাল যা নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন বাসিন্দারাও। তবে ছোট্ট ইকবালের এই কাণ্ড দেখে এখন সকলেই অবাক।
Murshidabad,Murshidabad,West Bengal