একই জেলেই বন্দি রয়েছেন মার্চেন্টে নেভি অফিসার স্বামীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত মুসকান এবং সাপের বিষে স্বামীকে খুনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত দামিনী৷ দুই চাঞ্চল্যকর ঘটনার নৃশংসতায় শিউরে উঠেছিল গোটা দেশ৷ কিন্তু দুই ‘স্বামীহন্তা’র অভিযোগে অভিযুক্ত স্ত্রী জেলে এখন কী করছেন জানেন? অতীত রক্তাক্ত, বর্তমান কীভাবে কাটছে মুসকান, দামিনীর?
প্রাক্তন মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুত হত্যা মামলায় অভিযুক্ত মুসকান রাস্তোগী গ্রেফতারির পর জানা যায় তিনি অন্ত:স্বত্তা ছিলেন৷ তিনি জেলেই কন্যা সন্তানের জন্ম দেন৷ সূত্রের খবর, বর্তমানে নিজের ছোট মেয়ের দেখাশোনা করছেন। পাশাপাশি তিনি নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ে (মানসিক পরামর্শ) অংশ নিচ্ছেন এবং জেলের ভিতরে আয়োজিত ভক্তিমূলক অনুষ্ঠানেও যোগ দিচ্ছেন।
দামিনী পানওয়ার, যিনি স্বামী অতুল পানওয়ারকে সাপের কামড়ে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন, সূত্রের খবর তিনি জেলের লাইব্রেরির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বইয়ের হিসাব রাখা, অন্য বন্দিদের পড়াশোনায় সাহায্য করা এবং জেলের শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছেন।
মুসকান রাস্তোগী ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে মিরাট জেলা জেলে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, স্বামী সৌরভ রাজপুত, যিনি প্রাক্তন মার্চেন্ট নেভি অফিসার ছিলেন, তাঁকে খুনের ঘটনায় তিনি ও তাঁর কথিত প্রেমিক সাহিল শুক্লা জড়িত।
পুলিশের দাবি, লন্ডন থেকে মিরাটে ফেরার পর সৌরভকে খুন করা হয়। এরপর দেহ টুকরো টুকরো করে সিমেন্ট ভর্তি একটি নীল প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে ভরে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এমন করা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছিল। ইতিমধ্যেই এই মামলায় চার্জশিট জমা পড়েছে এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে মুসকান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, দামিনী পানওয়ার ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে জেলে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, স্বামী অতুল পানওয়ারকে হত্যার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিলেন তিনি। পুলিশের দাবি, দামিনী ও তাঁর কথিত প্রেমিক প্রথমে অতুলকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান এবং পরে বিষধর সাপের কামড়ের মাধ্যমে মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে দেখানোর চেষ্টা করেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এর পেছনে ছিল ২০ লক্ষ টাকার জীবন বিমার অর্থ পাওয়ার পরিকল্পনা এবং সম্পর্কের পথে বাধা সরানো। পুলিশ আরও দাবি করেছে, এর আগে দুর্ঘটনা সাজিয়ে অতুলকে হত্যার আরেকটি চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে দামিনীও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে তদন্ত চলছে।
জেল সুপারিনটেনডেন্ট বীরেশ রাজ শর্মা জানিয়েছেন, দুই মহিলা বন্দির ক্ষেত্রেই জেল প্রশাসনের লক্ষ্য শুধুমাত্র নিরাপত্তা নয়, বরং তাঁদের সংশোধন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা। জেলের নিয়ম অনুযায়ী, ভোরে ঘুম থেকে ওঠা, হাজিরা দেওয়া, নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া এবং প্রশাসনের দেওয়া কাজ করা, সবই তাঁদের দৈনন্দিন রুটিনের অংশ। সন্ধ্যায় তাঁরা নিজেদের ব্যারাকে ফিরে যান।
শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে দামিনীকে লাইব্রেরি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বইয়ের রক্ষণাবেক্ষণ করেন, অন্য বন্দিদের পড়ার সামগ্রী পেতে সাহায্য করেন এবং জেলের ভিতরে থাকা মহিলা বন্দি ও শিশুদের শিক্ষামূলক কার্যক্রমেও সহযোগিতা করেন। জেল আধিকারিকদের মতে, তিনি শান্ত স্বভাবের এবং খুব বেশি কথা বলেন না।
মুসকানের দিন কাটছে মূলত তাঁর ছোট মেয়ের যত্ন নিয়ে। জেলের নিয়ম অনুযায়ী, ছয় বছরের কম বয়সি শিশুরা বন্দি মায়ের সঙ্গে থাকতে পারে। শিশুর দেখাশোনার পাশাপাশি মুসকান নিয়মিত মানসিক কাউন্সেলিংয়ে অংশ নেন এবং জেল প্রশাসনের আয়োজিত ভজন ও সুন্দরকাণ্ড পাঠের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, দৈনন্দিন কিছু কর্মকাণ্ডে দুই মহিলার মধ্যে মাঝে মাঝে যোগাযোগ হলেও বেশিরভাগ সময় তাঁরা নিজেদের দায়িত্ব নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। একই মহিলা বন্দি বিভাগে তাঁদের রাখা হয়েছে এবং কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।
জেল কর্তৃপক্ষের দাবি, জেলে আসার পর এখনও পর্যন্ত মুসকান বা দামিনী—কেউই পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ পাননি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং মানসিক চাপ সামলাতে তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত কাউন্সেলররা কথা বলছেন।