পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের মানুষ তাঁদের মৌলিক অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচন নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনকারীদের আরও দাবি, ওই অঞ্চলের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক—দুই ধরনের সংবাদমাধ্যমই নীরব থেকেছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, “চারদিকে লাশ পড়ে রয়েছে। কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আরও বহু মানুষ আহত। আমি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ করছি, এই ঘটনার খবর প্রকাশ করুন। কাশ্মীরিদের রক্ত ঝরছে।”
রাওয়ালাকোটে ‘আওয়ামি হুকুক লং মার্চ’-এ দমন-পীড়নের ঘটনার সঙ্গেই এই হিংসার যোগ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী এবং আন্দোলনের নেতাদের অভিযোগ, পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে বহু মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় দু’ডজন মানুষ আহত হন।
রাওয়ালাকোটের ড্রেইক ঈদগাহ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। খবর অনুযায়ী, বিপুল সংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা নির্বাচন বয়কট করে সেখানে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন।জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেকেজেএএসি) এবং স্থানীয় আন্দোলনকারীদের দাবি, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্য, পাঞ্জাব রেঞ্জার্স এবং পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তাঁদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী গুলি, দূরপাল্লার কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করে এবং কৌশলগত বিভিন্ন স্থানে স্নাইপার মোতায়েন করা হয়েছিল।
🚨 Breaking: “Situation in Rawalakot is extremely bad,” says Facebook vlogger Aqeel, who has more than 400K followers.
Aqeel claims the streets are filled with countless bodies, injured civilians are lying everywhere, and locals are carrying the wounded on their shoulders as… pic.twitter.com/7EMzmek03J
— OsintTV 📺 (@OsintTV) July 27, 2026
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে বহু মানুষ হতাহত হন। স্থানীয় সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত ১৯ জন নিহতের দেহ শনাক্ত করা গিয়েছে। তবে আরও মৃত্যুর খবর যাচাইয়ের কাজ চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবেই বিক্ষোভ করছিলেন। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ ছিলাম। আমরা শুধু যাওয়ার জন্য একটি রাস্তা চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। পাকিস্তানি বাহিনী আমাদের হাসপাতালগুলিও ঘিরে ফেলে।”
বিক্ষোভকারীরা মুজফ্ফরাবাদের উদ্দেশে পদযাত্রার প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ও নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ফেসবুক ভ্লগার আকিল, যাঁর চার লক্ষেরও বেশি অনুগামী রয়েছে, রাওয়ালাকোটের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। আকিলের দাবি, রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বহু মৃতদেহ পড়ে ছিল। বিভিন্ন জায়গায় আহত সাধারণ মানুষ পড়ে ছিলেন। পর্যাপ্ত অ্যাম্বুল্যান্স না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারাই আহতদের কাঁধে করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে ঘটনাটি তুলে ধরার আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, “কাশ্মীরিদের রক্ত রাস্তায় ঝরছে।”