Last Updated:
Police News: রেলশহর খড়গপুরে অপরাধ রুখতে ও টহলদারি ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। টাউন থানার সমস্ত পেট্রোলিং গাড়ি ও বাইকে বসানো হচ্ছে জিপিএস ট্র্যাকার, যা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করবেন খোদ পুলিশ সুপার।
মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: অপরাধ দমনে আরও কড়া পদক্ষেপ। এবার পুলিশের নজরদারি গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকার বসানোর সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। আপাতত ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসেবে খড়গপুর শহরকে বেছে নেওয়া হয়েছে। খড়গপুর টাউন থানার অন্তর্গত সমস্ত পেট্রোলিং গাড়ি এবং মোটরবাইকে এই ট্র্যাকার বসান হচ্ছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। মূলত রাতে টহলদারির দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের অবস্থান এবং গতিবিধির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতেই এই ব্যবস্থা। এর ফলে কন্ট্রোল রুম, থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক এবং খোদ পুলিশ সুপার সরাসরি নজরদারি চালাতে পারবেন এবং কোনও ঘটনা ঘটলে দ্রুত পদক্ষেপ করতে পারবেন।
আগামী দিনে জেলার অন্যান্য থানাতেও এই জিপিএস ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। নজরদারি আরও নিশ্ছিদ্র করতে পেট্রোলিং গাড়ির সংখ্যা বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। সেই লক্ষ্যে জেলার বিধায়কদের কাছেও সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। বিধায়ক তহবিল থেকে দু-একটি করে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ি বা ই-কার দেওয়া হলে, পুলিশ অনেকটা বড় এলাকায় যেমন নজরদারি চালাতে পারবে, তেমনই পরিবেশ দূষণও রোধ করা যাবে। জেলার বেশ কয়েক জন বিধায়ক এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়াও দিয়েছেন। মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত জানিয়েছেন, বিধায়ক তহবিল থেকে অ্যাম্বুল্যান্স দেওয়ার পাশাপাশি এবার তাঁরা পুলিশকে ই-কারও প্রদান করবেন।
পুলিশ সুপার স্পষ্ট জানিয়েছেন, নজরদারির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র পুলিশকর্মীদের গাফিলতি ধরা নয়, বরং শহরকে পুরোপুরি অপরাধ-মুক্ত করা এবং পুলিশের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখা। খড়গপুর টাউন থানার নতুন আইসি অমিতকুমার মিত্র দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতিমধ্যেই তৎপরতা বেড়েছে। গত দু’দিনের অভিযানে ছ’টি চুরি যাওয়া বাইক, একটি টোটো এবং একটি টিভি উদ্ধার করেছে পুলিশ, গ্রেফতার হয়েছে বেশ কয়েকজন। অপরাধীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে পুলিশ সুপারের কড়া বার্তা, দুষ্কৃতীদের হয় শ্রীঘরে যেতে হবে, নয়ত ভদ্র হয়ে যেতে হবে। অপরাধ করে এবার আর কেউ ছাড় পাবে না।
Paschim Medinipur,West Bengal
