Last Updated:
Pratima Mondal: ইতিমধ্যে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে শতাব্দী রায় সহ ১৯ জন সাংসদের সই চিঠিতে ছিল বলে জানা গিয়েছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে দেওয়া সেই চিঠিতে এনডিএ-র শরিক হতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা.
কলকাতা: দিল্লিতে যখন একের পর এক লোকসভার সাংসদ বিদ্রোহীদের চিঠিতে সই করছেন, সেই সময় গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল তাঁর নামও৷ প্রতিমা মণ্ডল৷ জয়নগর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত সাংসদ৷ শোনা যাচ্ছিল, ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে ওই দিন বিদ্রোহী সাংসদদের যে বৈঠক হয়েছিল, সেখানে তিনিও উপস্থিত ছিলেন৷ শুধু তাই নয়, এনডিএ-র শরিক হতে চেয়ে বিদ্রোহী সাংসদেরা যে চিঠি দিয়েছিল, তাতেও নাকি সমর্থন জানিয়েছিলেন তিনি৷ কলকাতায় ফিরে এই সমস্ত জল্পনা নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন প্রতিমা মণ্ডল৷
সাংসদ প্রতিমা মণ্ডলের কথায়, ‘‘আমি দিল্লি গত চার তারিখ সংসদের মিটিং এবং একটি লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদের যে কাজ থাকে সেই কারণে। সেই মিটিং শেষ করে আমি চার তারিখেই ফিরে এসেছি কলকাতায়। এই মুহূর্তে আমি বালিগঞ্জে আমার বাড়িতে রয়েছি। যারা আমার বিরুদ্ধে এসব চক্রান্ত বা মিথ্যা গুজব রটাচ্ছেন তাদের বলব এগুলো করে আমার কেন্দ্রের মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না।’’
প্রতিমা মণ্ডলের স্পষ্ট মন্তব্য, ‘‘আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে রয়েছি আগামী ২৯ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জনসেবা করা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার দায়িত্ব সেই দায়িত্ব আমি পালন করব। জোড়া ফুল আমার চিহ্ন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী।’’
এর পাশাপাশি, বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে তোপ দেগে প্রতিমা বলেন, ‘‘যে সমস্ত বিক্ষুব্ধ সাংসদ গিয়েছেন মিটিং করেছেন দিল্লিতে তাদের শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমপির পথ দিয়েছেন তাই নয় সাংগঠনিক একাধিক পদে তাদেরকে বসানো হয়েছে। তারা সেই সমস্ত পদে এনজয় করেছে সুখ ভোগ করেছে। এখন দল ক্ষমতাই নেই তাই এ ধরনের বিক্ষোভ বা ক্ষোভের কথা প্রকাশ্যে আসছে। দল ক্ষমতায় যখন ছিল তখন কিছুই বলেনি। আমি বিশ্বাস করি রাজনীতিতে বিরোধী মুখ থাকা প্রয়োজন।’’
তৃণমূল সাংসদের কটাক্ষ, ‘‘হয়ত, যে সমস্ত বিক্ষুব্ধ প্রতিনিধি মিটিং করছেন কিংবা দিল্লিতে দলের বিরুদ্ধে কথা বলছেন তাদের সঙ্গে থাকা সাংসদের সংখ্যা কম। তাই হয়ত আমার নাম জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু আমি সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে আমার কেন্দ্রের মানুষকে বলতে চাই আমি কোনও বিক্ষুব্ধ দলে নেই আমি আমার দায়িত্ব পালন করব।’’
জয়নগরের তৃণমূল সাংসদের কথায়, ‘‘সায়নী ঘোষ কী করবেন বা কী করছেন সেটা তিনিই জানাতে পারবেন। আমি যেমন তার দায়িত্ব নেইনি তেমন আমার সম্পর্কে যারা এ ধরনের কথা বলছেন তাদেরকে বলব প্রতিমা মন্ডল নিজের দায়িত্ব নিজে নিতে পারে আমি কোথায় যাব আমি কি করবো সেটা আমি ঠিক করব আমার হয়ে অন্য কাউকে বলার দরকার নেই।’’
প্রতিমা মণ্ডলের কথায়, ‘‘যারা বিক্ষুব্ধ হয়েছেন বা মিটিং করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তাদের প্রতি আমার শুভেচ্ছা রইল তারা আমার কলিগ। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তো বলেছেন তিনি কাজ করবেন আগামী দিনে উন্নয়ন করবেন তাই আমি তাকে শুভেচ্ছা জানাই। তিনি যদি আমাকে প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকেন আমি নিশ্চয়ই যাবো আমার অনেক দাবি দেওয়া রয়েছে সেগুলো জানাব মানুষের জন্য কাজ করব।’’
ভোটের পরে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন তৃণমূল সাংসদ৷ বলেন, ‘‘তবে ভোটের পর থেকে বিভিন্ন ক্ষমতার অপব্যবহার যারা করেছেন সেই ছবি প্রকাশ্যে আসছে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তবে মনে করি যে ডিম ছোড়া বা এই ধরনের জিনিস ক্রমাগতভাবে হয়ে আসছে সেটা গণতন্ত্রের পক্ষে ঠিক নয়। যারা অন্যায় করেছেন তাদের জন্য আইনের ব্যবস্থা রয়েছে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আইন রয়েছে সেগুলো করা হোক।’’
কিন্তু, দল তো ধসে যাচ্ছে চোরবালির মতো৷ তা নিয়ে কী মন্তব্য প্রতিমা মণ্ডলের? বললেন, ‘‘কিছুক্ষণ আগেই শুনলাম রাজ্যসভার সংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন প্রকাশ চিক বড়াইক। খারাপ লাগছে। তবে মন ভাঙছে দল একটু একটু করে ভাঙছে দেখে।’’
