অনেক সময় এই বিরোধের কারণ লোভ নয়। বরং প্রয়াত ব্যক্তির শেষ ইচ্ছা সঠিকভাবে না বোঝা বা সম্পত্তির প্রয়োজনীয় নথি খুঁজে না পাওয়ার কারণেই সমস্যা তৈরি হয়। এর ফলে বছরের পর বছর আইনি লড়াই চলতে থাকে এবং সময়ের পাশাপাশি বিপুল অর্থও খরচ হয়। তবে সঠিক পরিকল্পনা করলে এই ধরনের সমস্যার অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
১. আইনি বৈধতা-সম্পন্ন একটি স্পষ্ট উইল (Will) তৈরি করুন
ভবিষ্যতে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল একটি আইনসম্মত ও স্পষ্ট উইল তৈরি করা। উইলে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকবে, আপনার মৃত্যুর পর কোন সম্পত্তি কে পাবেন। যদি কোনও উইল না থাকে, তাহলে উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টন হবে, যা আপনার ইচ্ছার সঙ্গে নাও মিলতে পারে। তাই উইলে সমস্ত উত্তরাধিকারীর নাম এবং সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত।
অনেকেই মনে করেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, বিমা বা বিনিয়োগে যাঁকে নোমিনি করা হয়েছে, তিনিই সেই সম্পত্তির মালিক হয়ে যান। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সবসময় তা নয়। অনেক ক্ষেত্রে নোমিনি কেবল সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী (Caretaker) হিসেবে কাজ করেন, প্রকৃত মালিক নন। তাই বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, সন্তানের জন্ম বা পরিবারের বড় কোনও পরিবর্তনের পর নোমিনির তথ্য দ্রুত আপডেট করুন এবং তা যেন আপনার উইলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
অনেক সময় পরিবার জানেই না, একজন ব্যক্তির মোট কত সম্পত্তি বা বিনিয়োগ রয়েছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট (FD), মিউচুয়াল ফান্ড, শেয়ার, বিমা বা অন্যান্য বিনিয়োগের নথি বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকলে পরে সেগুলি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই নিজের সমস্ত সম্পদ এবং ঋণের একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরি করে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করুন। এতে পরিবারের সদস্যদের জন্য ভবিষ্যতে বিষয়গুলি অনেক সহজ হবে।
সম্পত্তি বা মৃত্যুর মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে অনেকেই অস্বস্তি বোধ করেন। কিন্তু এই নীরবতাই ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। যদি সম্পত্তি নিয়ে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে পরিবারের সঙ্গে অন্তত তার কারণ নিয়ে আলোচনা করুন। প্রতিটি সম্পদের খুঁটিনাটি জানানো জরুরি নয়, তবে আপনার সিদ্ধান্তের যুক্তি জানালে ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝি বা বিরোধের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।
জীবনের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতিও বদলায়। তাই সম্পত্তি পরিকল্পনাও সময়ে সময়ে পরিবর্তন করা উচিত। বিয়ে, সন্তানের জন্ম, নতুন বাড়ি বা জমি কেনা কিংবা বড় কোনও আর্থিক পরিবর্তনের পর নিজের উইল ও নোমিনির তথ্য আবার পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজন হলে সংশোধন করুন। কারণ বহু বছর আগের একটি অসম্পূর্ণ বা পুরনো উইল ভবিষ্যতে ঠিক ততটাই সমস্যা তৈরি করতে পারে, যতটা কোনও উইল না থাকলে হয়।