প্রশ্ন দিদি নম্বর ১ বদল হচ্ছে এবং আপনার দীর্ঘদিনের তৈরি করা দিদি নম্বর ওয়ানের চরিত্রটার বদল ঘটতে চলেছে, আপনার প্রথম প্রতিক্রিয়া কি সেটা জানতে চাইব?
উত্তর আমার কোনও প্রতিক্রিয়া নেই। এটা চ্যানেল এ ডিসিশন। এটা চ্যানেল চিন্তা করেছে, চ্যানেলের ভাবনা যে নতুন লুক দেব, নতুনভাবে উপস্থাপনা করব এবং সেই নতুন করে লুক দিতে গেলে তো অ্যাঙ্কারের মুখটা নতুন হলে হয়তো নতুন লুকটা আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হবে। সেই কনফিডেন্স নিয়ে চ্যানেল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যখন একটা সেট চেঞ্জ হয়, যখন ফরম্যাট চেঞ্জ হয়, শোয়ের পরিকাঠামো চেঞ্জ হয়, তখন তার সঙ্গে অ্যাঙ্কার চেঞ্জ হলে ওদের মনে হয়েছে হয়তো সেটা মানুষের কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হবে। তাই জন্য করেছে।
প্রশ্ন আচ্ছা এখানে আপনার রাজনৈতিক ব্যস্ততা বা ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কোন বিষয় থাকছে?
উত্তর সেটা আমি আমি বলতে পারব না সেটা তাদের মনের মধ্যে কিছু আছে কিনা আমি জানি না, তারা কোনও পার্টিকে বিশ্বাস করে কিছু করেছে কিনা, সেটাও আমি বলতে পারব না। এটা চ্যানেলের ডিসিশন।
রচনাকে সরিয়ে এবার দিদি নম্বর ১-এ আসছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়
প্রশ্ন আপনাকে সময় নিয়ে কোনও রকম কিছু বলা হয়নি? যে আপনি যথার্থ সময় দিতে পারছেন না বা এরকম কিছু…
উত্তর না না সেটা আমাকে বলা হয়নি। আমি যথার্থ সময় দিতে পারছি না তো কোনদিনই ওরা বলতে পারবে না। কারণ যখন আমি রাজনীতিতে এসেছি, যখন আমার প্রচার চলছে, ইলেকশনের ক্যাম্পেইনিং, তখন আমি সারাদিন ক্যাম্পেইন করেছি এবং সারা রাত শুটিং করেছি৷ আমি সেরকমভাবে adjust করে কাজ করি৷ ফলে সময় দিতে পারছি না, কোনও যদি ওরা বলেও সেটা মিথ্যে কথা বলবে, এটা বলতে পারে না। চ্যানেল ও বলতে পারবে না বা আমার টিম ও বলতে পারবে না। কারণ সময় তো অফুরন্ত দেওয়া৷ আমি কিভাবে টাইম adjust করে বার করি সেটা শুধুমাত্র আমি জানি৷ আমার ছেলেকে আমি বড়ই করেছি দিদির নাম ১ করতে করতে৷ তো টাইম ম্যানেজমেন্ট এবং টাইম অ্যাডজাস্টমেন্ট তো আমি সারাজীবন করেই এসেছি। এটা ওদের ডিসিশন৷ ওদের হয়তো কনফিডেন্স আছে যে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছাড়াও এই শোটাকে সেই জায়গায় নিয়ে যেতে পারবে৷ তো আই উইশ দেম অল দা বেস্ট৷ আমি ওদেরকে অনেক শুভেচ্ছা জানিয়ে এসছি।
প্রশ্ন দিদি নম্বর ওয়ান বলতেই লোকে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বোঝে৷ এতদিনের তৈরি হওয়া একটা চরিত্র সেটা হঠাৎ করে বদলে গেলে আপনার মনে হয় না, এটা ওদের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ?
উত্তর ডেফিনিটলি ওদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, ওরা সেই চ্যালেঞ্জ একসেপ্ট করেছে এবং যেটা তুমি ভাবছ বা যেটা দর্শক ভাবছে যে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছাড়া দিদি নম্বর ওয়ান ভাবা যায় না, সেটা হয়তো ওরা ভাবতে চাইছে না৷ সেটাই চ্যানেল এর জন্য সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ যে আমরা এটা মেনে নেব না যে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া দিদি নম্বর ওয়ান হতে পারে না। এটা ওদের কাছে চ্যালেঞ্জ। সেটা হয়তো ওরা মেনে নিতে চায় না যে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিদি নম্বর ওয়ান কে টানে না, চ্যানেল দিদি নম্বর ওয়ান-কে টানে। সেই জন্যই ওরা হয়তো নতুন করে উপস্থাপনা করে তৈরি করতে চাইছে। এটা তাদের সেলফ কনফিডেন্স যে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য দিদি নম্বর ওয়ান নয়, দিদি নম্বর ওয়ান চ্যানেলের জন্য দিদি নম্বর ওয়ান। তাই আইশ দেম অল টি বেস্ট।

১৫ বছর তিনিই ছিলেন দিদি নম্বর ১-এর হোস্ট
উত্তর আমার একটা জায়গাতেই আপত্তি, যে তুমি যখন অ্যাঙ্করকে চেঞ্জ কর বা যখন তুমি একজন এতদিনের পুরনো অ্যাঙ্করকে বদলে ফেলো, তখন তুমি তাদের একটা ন্যূনতম সময় দেবে ভাবার জন্যে বা বলার জন্যে৷ এটা একটা এথিক্স, এটা একটা ভদ্রতা কারণ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও পঞ্চাশটা জিনিস আছে করার, কিন্তু দিদি নম্বর ওয়ান না থাকলে তাঁর সঙ্গে যে সব স্টাফেরা কাজ করেন তাদের কিন্তু কিচ্ছু থাকে না। তোমরা পাঁচজন স্টাফকে দুদিনের মধ্যে বসিয়ে দিয়েছ। এটার জবাব তো দিতে হবে৷
প্রশ্ন মানে যথার্থ সময় দেওয়া হয়নি। হঠাৎ করেই…
প্রশ্ন কিন্তু আগাম নোটিশ দিতে হয়তো প্রত্যেককে, মানে তোমাকে এবং তোমার সঙ্গে যারা কাজ করে….
উত্তর না এটা একটা রুল আছে চ্যানেলের যে সাত দিনের মধ্যে তারা আমার কাজ বন্ধ করতে পারে, সেটা কন্ট্রাক্ট-এ থাকে৷ কিন্তু তুমি কন্ট্রাক্ট এর রুল রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর রাখতে পারো না। যে মানুষটা তোমাদের সঙ্গে ১৫ বছর ধরে অ্যাঙ্কারিং করছে… তার সঙ্গে এরম করা কোনও ভদ্রতা নয়। কন্ট্রাক্ট তো ২৫ পাতার হয়, তাতে প্রচুর কিছু থাকে। সে কন্ট্রাক্ট নিয়ে তো মানুষ বসে থাকে না৷ সেসব কন্ট্রাক্ট তোমরা কার সঙ্গে করবে? যখন যারা নতুন আসে ১৪ মাসের জন্য কাজ করছে, তাদের সঙ্গে। যে তোমার সঙ্গে এত বছর ধরে কাজ করল, তোমাদের শোটাকে এই জায়গায় নিয়ে গেল, তার সঙ্গে এরম করা যায় না! আমার হয়ত কিছু যায় আসে না, দু’দিনে আমাকে বন্ধ করতেই পারো কারণ আমার সঙ্গে তোমার সেই কন্ট্রাক্ট আছে যে সাত দিনের মধ্যে আমরা শো টাকে বন্ধ করতে পারি… কিন্তু একটা নৈতিকতা নেই? এটা ভাবলে না যে এতগুলো স্টাফ কী করবে দুদিন পর থেকে?
আমরা যদি তিন মাস আগে জানাতাম, যে রচনাদি আমাদের কিন্তু ৩মাস পরে শোটা একটু পাল্টানোর কথা ভাবছি, তুমি একটু তোমার স্টাফদের বল কাজ খুঁজতে নিতে…তাহলে সমস্যা থাকত না। স্টাফরা এখন আমার কাছে সে বলছে, দিদি আমাদের এখন কী হবে? আমরা কী করব? আমি তাদেরকে বললাম, তোরা চিন্তা করিস না। আমি আছি তোদের পাশে। এটা দিদি নম্বর এর মতন এইরকম একটা পপুলার শোয়ের অর্গানিজেরদের থেকে নট একসেপ্টেড। Unprofessional একদম full Unprofessional, ethics বিহীন একটা কাজ, যেখানে পাঁচজন লোকের পরিবারের খাওয়া দাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।
ওকে নিয়ে আমার কোনও আপত্তি নেই। তুমি রচনা মন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতেই পারো। কারণ আমার সঙ্গে সাতদিনে সেভাবে কন্ট্রাক্ট থাকে। আমি সেটা পরিপ্রেক্ষিতেই বলছি, সাতদিনের কন্ট্রাক্ট আমার সঙ্গে রয়েছে। আর তুমি সেই কন্ট্রাক্ট মেনে দিয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্রিট করবে নাকি তুমি ১৫ বছরের সম্পর্ক রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্রিট করবে?!
প্রশ্ন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কে নেওয়া হয়েছে। ও তো তোমার সহকর্মী… স্বস্তিকার সঙ্গে তোমার এ বিষয়ে কোনও কথা হয়েছে?
উত্তর ও নিশ্চয়ই ভাল কাজ করবে৷ আমাদের দিদি নম্বর ১-এর টিম যারা রয়েছে, ডিরেক্টরস যারা আছে আমার ম্যানেজার্স যারা কাজ করে তারা সবাই খুব ভাল, আমার সঙ্গে এত বছরের সম্পর্ক… তারা বড়ই হয়েছে আমার সঙ্গে৷ ১৫ বছর বুঝতে পারছো তো? তারা নিজেরাই চোখের জল ফেলছে, যে দিদি আমরা কী করে তোমাকে ছাড়া থাকব। কথাটা হচ্ছে আমি চ্যানেলকে নিয়ে বলছি, কথাটা হচ্ছে আমি প্রোডাকশন এর যারা মাথা যারা তাদেরকে নিয়ে বলছি…ডিরেক্টর ডিপার্টমেন্ট যারা রয়েছে…ডিরেক্টর অভিজিৎ সেন, নবনীতা সেন, সুশান্ত ঘোষ… আমি তাদের কথা বলছি, তারা তো বড় বড় জায়গায় বসে রয়েছে অফিসে। তারা এই কাজ কী করে করতে পারে?
প্রশ্ন তুমি বলনি তোমার অভিযোগ?
উত্তর আসলে লেখাই থাকে সাত দিনের মধ্যে আমরা নোটিশ করতেই পারি… আমি কিচ্ছু বলিনি৷ আমি তো ঝগড়া করতে পারি না কারও সঙ্গে…
প্রশ্ন কিন্তু তুমি নিজেও জানো, ইতিহাস সাক্ষী, এর আগেও দুবার রিপ্লেসমেন্ট হয়েছিল অ্যাঙ্কার…
উত্তর হয়েছে হয়েছে হয়েছে, একদম হয়েছে৷ সেগুলো ছমাস ছমাস করে হয়েছে। হ্যাঁ, কিন্তু তখনকার রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় আর আজকের রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে অনেক তফাৎ। কারণ ২০১১ তে দিদি নম্বর ওয়ান শুরু হয়েছিল। এবং ২০১৪ তে ছয় মাসের জন্য জুন মালিয়া এসেছিলেন, ২০১৫ তে ছয় মাসের জন্য এসেছিলেন দেবশ্রী রায়৷ তারপর ২০১৫-এর মাঝখান থেকে আজকের ২০১৬ পর্যন্ত রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় একা শোটা টেনেছে, সেটা তো কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।
আজকে ১০-১১ বছর শোটা চলেছে৷ যাকে নিয়ে তোমাদের চ্যানেল টাকা কামাল, তোমাদের চ্যানেলকে এই জায়গাটায় পৌঁছল, দিদি নম্বর ওয়ান, সেই শো টাকে তোমরা যখন চেঞ্জ করছ। তোমাদের একটা ভদ্রতা, সভ্যতা, নৈতিকতা, এথিক্স যাই বল না কেন, সেটা তোমাদের একটা থাকবে না যে অ্যাঙ্কারকে আমরা অন্তত ৩-৪ মাস আগে থেকে বলব যাতে তার স্টাফ গুলো ঠিকঠাক কাজ পেয়ে যায়৷ আমার ব্যবসা আছে। আমার পলিটিক্স আছে। আমার অন্য কাজেও থাকবে। আমার কোন সমস্যা নেই। কিন্তু বাকিরা, তারা কি করবে? যেটা ভুল সেটা ভুল!