কেন রেশন কার্ড যাচাই করা হচ্ছে?
কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে বিভিন্ন রাজ্যে রেশন কার্ডের তথ্য পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে। সরকারি সূত্রের দাবি, তদন্তে এমন বহু রেশন কার্ড চিহ্নিত হয়েছে, যেগুলির উপভোক্তারা প্রকৃতপক্ষে বিনামূল্যে রেশন পাওয়ার যোগ্য নন। সেই সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের পর রেশন কার্ড বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
খাদ্য দফতর সূত্রে খবরে জানা গিয়েছে, ৬ লক্ষ টাকার বেশি যাঁদের আয় তাঁদের রেশন কার্ড নিজে থেকেই বাতিল হয়ে যাবে৷ এসআইআর-এ নাম বাদ গেছে যাঁদের তাঁদের কার্ড বাতিল৷ সিএএ-তে অ্যাপ্লিকেশন করা থাকলে যতক্ষণ ভেরিফিকেশন হচ্ছে না, অ্যাপ্লিকেশন কপি দেখালে রেশন চালু থাকবে ৷ সিএএ আবেদনের ভেরিফিকেশনে নাম বাদ গেলে তখন রেশন কার্ডও বাতিল হয়ে যাবে৷
কারা যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারেন?
বর্তমানে যাঁদের তথ্য বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী
পেনশনভোগী
EPF-এ নথিভুক্ত কর্মী
চারচাকা ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক
ভারী বাণিজ্যিক গাড়ির মালিক
এছাড়াও, বিশেষ পুনর্বিবেচনা (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের তথ্যও মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। সমস্ত তথ্য যাচাইয়ের পরই কোনও রেশন কার্ড বাতিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, সারা দেশে প্রায় ৬ কোটি রেশন কার্ডধারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁরা বিনামূল্যে রেশন পাওয়ার যোগ্য নন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই তালিকায় এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন যাঁদের বার্ষিক আয় নির্ধারিত সীমার বেশি, যাঁরা মারা গিয়েছেন অথবা যাঁদের আধার সংক্রান্ত তথ্য আর বৈধ নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তালিকার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১৭.৫ লক্ষ রেশন কার্ডধারীর নাম থাকতে পারে। তবে কোনও কার্ড বাতিলের আগে প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করা হবে বলেই জানা গিয়েছে।
এই বিপুল সংখ্যক রেশন কার্ডের তথ্য এখন ধাপে ধাপে যাচাই করা হচ্ছে। যাচাইয়ের পরই ঠিক হবে কারা রেশন সুবিধা পেতে থাকবেন এবং কারা অযোগ্য হিসেবে তালিকা থেকে বাদ পড়বেন।