গর্ডন বলেন, “ওদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে এবং খুব… আমি এটা নিশ্চিতভাবে জানি। আক্ষরিক অর্থেই কয়েক দিনের মধ্যে এমন কিছু ঘটবে, যা আমাদের বড় আশা দেবে।” সম্ভাব্য সেই ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে সাংবাদিক গর্ডন বলেন, তিনি কোনো অনুমান বা ভবিষ্যদ্বাণী করছেন না, বরং ব্যক্তিগতভাবে জানা তথ্যের ভিত্তিতেই কথা বলছেন।
গর্ডন বলেন, “আমি একটা কথা বলি। ২০২৪ সালের পর থেকে আমি ভবিষ্যদ্বাণী করা ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু এই মুহূর্তে আমি এমন একটি বিষয় নিয়ে কথা বলছি, যা আমি জানি। আমি বলতে পারছি না এটি কী—এটি একটি সামরিক গোপনীয়তা। তবে আমি জানি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে—অথবা সর্বোচ্চ এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে—এমন কিছু ঘটবে, যা জাতিকে নতুন করে ডানা মেলে উড়ার মতো আশা দেবে। আমি এটা জানি।”
রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলা
গর্ডনের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দূরপাল্লার হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
রবিবার রাশিয়া দাবি করে যে, ইউক্রেন মস্কো-সহ রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, ১,৬০০টিরও বেশি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫০টি মস্কোর দিকে এগিয়ে আসছিল বলে তিনি জানান। রুশ কর্মকর্তাদের মতে, হামলায় অন্তত দু’জন নিহত হয়েছেন এবং একটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এরপর ইউক্রেনও একটানা রুশ হামলার মুখে পড়ে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, রবিবার কিয়েভ অঞ্চলে ধারাবাহিক রুশ হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু। এক দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা এসব হামলায় পাঁচটি জেলার ৩১টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তকাচেঙ্কো জানান। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে ছিল বাড়িঘর, শিল্প ও ইউটিলিটি অবকাঠামো, একটি কৃষি প্রতিষ্ঠান এবং বেশ কিছু যানবাহন।
সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো এমন সময়ে ঘটছে, যখন ইউরোপীয় কর্মকর্তারা সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে কিয়েভ তার দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও বলেছেন, রাশিয়ার হামলার জবাব দিতে ইউক্রেন নতুন দূরপাল্লার অভিযান প্রস্তুত করছে। তবে গর্ডন ঠিক কী ঘটতে চলেছে তা প্রকাশ করেননি। তিনি শুধু বলেছেন, বিষয়টি একটি “সামরিক গোপনীয়তা”।